দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বর্তমানে, ভোটযুদ্ধে নামার আগে, রাজ্যে চলছে জোরদার প্রচার-পর্ব। জেলায় জেলায় যাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ও অন্যান্যরা। লক্ষ্য একটাই আর সেটা হল মসনদ দখল। ইতিমধ্যেই শাসক, বিরোধী, দুই শিবিরই ঘুঁটি সাজাতে লেগে পড়েছে। সকলেই এখন ‘পোল স্ট্র্যাটেজি’ ঠিক করছেন। বলা ভালো, রীতিমতো যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলায়।
এই আবহাওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বড় দাবি করেছেন দলের অন্যতম বর্ষিয়ান নেতা মদন মিত্র। তাঁর মতে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পরাজিত করার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট এবং দরকার পড়বে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও দাবি করেছেন যে নন্দীগ্রামে ঘাসফুল শিবিরের পক্ষে বাজি ঘুরিয়ে দিতে পারে সেবাশ্রয়। এক কথায় বলতে গেলে, জয় নিয়ে তিনি আশাবাদী।
তবে মদন মিত্রের দাবির পাল্টা দিলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। গেরুয়া শিবিরের কাউন্সিলর বলেন, “ভালো কথা নন্দীগ্রামকে পাখির চোখ করেছে। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিততে পারেননি, এখানে জিততে পারে কিনা ছানাপোনারা, চেষ্টা করে দেখুক।” সেবাশ্রয়ের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতার প্রশ্ন, “সেবাশ্রয়ের কি দরকার যদি রাজ্যে স্বাস্থ্য থাকবে? রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে খামতি রয়েছে, তা বারবার প্রমাণ করে।”
বলে রাখা ভালো, গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারী জয় পেলেও তা বিতর্কিত। প্রথমে ঘোষণা করে দেওয়া হয় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। পরে ঘোষণা করা হয় জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে অবশ্য ভবানীপুর থেকে দাঁড়িয়ে জেতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা বিষয়টি নিয়ে অব্যাহত রাজনৈতিক তরজা। এবার দেখার বিষয় যে এবারের নির্বাচনে বিজেপি নন্দীগ্রাম ধরে রাখতে পারে কিনা। নাকি তা দখল করবে ঘাসফুল শিবির? তা বলবে সময়।



By










