দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: শনিবার, ৯ মে, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো গোটা বাংলা। পথচলা শুরু হলো বিজেপি সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিসভার আরও পাঁচজন – দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু।
সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
এরপরই বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে কাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে। অবশেষে শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তিনি শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ দলের বহু প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে। শিশির পুত্রের পর দিলীপ ঘোষ শপথ নেন দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে। এছাড়া শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডুও। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আলাদা সাজে সেজে উঠেছিল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। মানুষের জমায়েত ছিল দেখার মতো।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে তিনি পরাজিত করেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী কারচুপির অভিযোগ তোলেন। যদিও গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকেও এর পাল্টা দেওয়া হয় তাঁকে সহ গোটা ঘাসফুল শিবিরকে। শনিবার শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। এবার দেখার বিষয় যে রাজ্যবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করতে পারেন কিনা। তাঁর আমলে বাংলার পরিস্থিতি আগামীদিনে কেমন হতে চলেছে, তা বলবে সময়।



By









