• Home
  • জেলার খবর
  • সংঘাতের জেরে মিলছে না গ্যাস, বাড়ছে খাবারের দাম, চিন্তায় হোটেল-রেস্তরা

সংঘাতের জেরে মিলছে না গ্যাস, বাড়ছে খাবারের দাম, চিন্তায় হোটেল-রেস্তরা

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে চলতি সংঘাতের কারণে যে দেশের বাজারে ব্যাপক চাপ পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। রাস্তার ধারের পাইস হোটেলগুলি দাম বাড়িয়ে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এবার তা আরও শোচনীয় হল কেন্দ্রের এসমা জারি করায়। বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানের ক্ষেত্রে চাপ পড়ছে উৎপাদনে কম হওয়ায়। সোমবার থেকে গোডাউনে আসছে না নতুন করে বাণিজ্যিক গ্যাস। কাজ চালানো হচ্ছে মজুত থাকা সিলিন্ডার দিয়েই। ইতিমধ্যেই বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ের ২০ শতাংশ রেস্তরা বন্ধ হয়ে গেছে।

কলকাতার খাদ্য গলি বা হোটেল-রেস্তরা পাড়ায় নেমে এসেছে চিন্তার ছায়া। এমনকি গ্যাসের অভাবে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ারও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক জনপ্রিয় ফুড চেনের অন্যতম কর্ণধার দেবাদিত্য চৌধুরী বলেছেন, “কোভিডের সময়ও ব্যবসা চালু রেখেছিলাম আমরা। কর্মচারীদের মাইনে, বোনাস দিয়েছিলাম। কিন্তু জ্বালানিতে চাপ পড়ায় এবার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে এগোচ্ছে। মেনু কমাতে হচ্ছে।”

ডিস্ট্রিবিউটররা প্রয়জনের অর্ধেক সিলিন্ডারও না দিতে পারায় প্রশ্ন উঠছে যে পাওয়া যাবে কিনা সিলিন্ডার। ২-৩ দিন পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে মনে করছে ছোট থেকে মাঝারি রেস্তোরাগুলি। ডেকার্স লেনের চিত্তদার দোকানের ম্যানেজার বুবাই পণ্ডিতের বক্তব্য, “এই চলতে থাকলে বন্ধ করে দিতে হবে ব্যবসা। রোজ গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং জোগান কমছে। দাম বাড়ছে যত গোলাগুলি বাড়ছে। বুঝতে পারছি না আগামীদিনে কি করব।” সেখানকার এক ফাস্টফুড দোকানের মালিক সুশান্ত হালদারের বক্তব্য, “ইতিমধ্যেই ব্ল্যাক হতে শুরু করেছে বাণিজ্যিক গ্যাস। এরপর ব্ল্যাকেও পাওয়া যাবে না। পরিস্থিতি সেদিকেই এগোচ্ছে। জানি না কি করবো। পুরনো কাঠকয়লায় তো আর ফিরে যাওয়া যাবে।”

শিয়ালদহের এক ভাতের হোটেলের মালিক চঞ্চল ঘোষের বক্তব্য, “এমনিতেই দাম বেড়েছে জিনিসের। এখন তো আবার গ্যাসের সিলিন্ডারই অমিল। বুঝতে পারছি না কি করব।” ডালহাউসিতে চাউমিন, চিলি চিকেনের দোকান মালিক সঞ্জু ঘোষ বলেন, “এবার গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি কিনতে হচ্ছে ব্ল্যাকে। এই পরিস্থিতিতে খাবারের দাম বাড়াতে হবে, নাহলে কমাতে হবে পরিমাণ।” বালিগঞ্জের এক হোটেল মালিক দুলাল চন্দ্রের কথায়, “খদ্দের আসবে না খাবারের দাম বাড়ালে। আবার মানও রাখতে হবে। হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসা চালাতে গিয়ে। যাঁরা খেতে আসেন আমাদের হোটেলে, তাঁরা খুবই সাধারণ মানুষ। প্রত্যেকেরই বাজেট সীমিত।” এবার দেখার বিষয় যে আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি কোনদিকে গিয়ে দাঁড়ায়। কী হয়, সেটাই এখন দেখার।

Releated Posts

তৃণমূল নেতাদের ডিম ছোড়ার বিরোধিতা করে জনস্বার্থ মামলা

তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধির লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে ডিম ছুঁড়ে হেনস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের…

ByByHafizur Rahaman Jun 17, 2026

“আপাতত করা যাবে না উচ্ছেদ” সাময়িক স্বস্তি হকারদের

কোর্ট জানায়, আপাতত নির্দিষ্ট হকারদের এই মাসে করা যাবে না উচ্ছেদ। শুধু তাই নয়, এও স্পষ্ট করে দেওয়া…

ByByHafizur Rahaman Jun 17, 2026

হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ মমতার

বুকে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মতলায় এক মানববন্ধন ও মিছিলে তিনি যোগ দেন। এদিন তৃণমূল নেত্রীর সাথে…

ByByHafizur Rahaman Jun 17, 2026

ফুলবাগান এলাকা থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ

এদিন সকালে তাঁকে গ্রেফতার করে কোচবিহার পুলিশের একটি দল। ফুলবাগান থানায় নিয়ে যাওয়ার পর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে তাঁকে…

ByByHafizur Rahaman Jun 17, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top