দেবজিৎ মুখার্জি: অবশেষে আবগারি দুর্নীতি থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পেলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তথা আম আদমি পার্টি (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে তিনি একা নন, মুক্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াও। রাউস এভিনিউ কোর্টের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে এতে কোন ক্রিমিনাল ইন্টেনশন বা ষড়যন্ত্র ছিল না। সিবিআই তা প্রমাণ করতে পারেনি।
গতবছর দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে কেজরিওয়ালদের বিরুদ্ধে আবগারি দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, আম আদমি পার্টি রাজ্যে যে আবগারি নীতি চালু করেছিল, তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল রাজ্যের কোষাগারে। সরকারের অন্তত ২০২৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াকে মূল অভিযুক্ত বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আপ সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ তোলা হয় এবং মোট ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এর জেরে জেলে যেতে হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। পাশাপাশি কারাগারে যেতে হয়েছিল মণীশ সিসোদিয়া সহ আরো অনেককে। কিন্তু ইডি বা সিবিআই, দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাই দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি এবং এর জেরে একেক করে সকলেই জেলমুক্ত হন। শুক্রবার রাউস এভিনিউ কোর্ট পুরোপুরি কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াকে রেহাই দেয় মামলা থেকে।
মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের চোখে জল দেখা যায়। সেই অবস্থায় তিনি সাংবাদিকদের নিজের অবস্থান জানান। আপ সুপ্রিমো বলেন, “আমি একজন কট্টর সৎ মানুষ। আজ আদালতের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হলো যে আমি বা মণীশ সিসোদিয়া অসৎ নই।” তাঁর সংযোজন, “স্বাধীন ভারতবর্ষের সবথেকে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। কিন্তু জয় হল সত্যের এতদিন পর।” এবার দেখার বিষয় যে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয় কেজরিওয়াল সহ গোটা আম আদমি পার্টির। কী পরিকল্পনা নিয়ে তারা বিজেপির বিরুদ্ধে ময়দানে নামবে, সেটাই এখন দেখার।



By













