দেবজিৎ মুখার্জি: এনসিইআরটির অষ্টম শ্রেণীর সোশ্যাল সাইন্স বইয়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এবার এই ব্যাপারে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কী বললেন তিনি? এই ঘটনা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, তিনি কড়া বার্তা দেন ইজরাইল থেকে। এই ঘটনায় যুক্ত সকল অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির নির্দেশ দেন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইজরাইল সফরে। সেখান থেকেই তিনি ঘটনা প্রসঙ্গে চিন্তা প্রকাশ করেছেন এবং বার্তা দিয়েছেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে তিনি বলেছেন, “আমরা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের কি পড়াচ্ছি বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি নিয়ে? কারা দেখাশোনা করছে এগুলো? কারা তৈরি করছে সিলেবাস?” প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জবাব দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এই বিতর্কিত বই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে কেন্দ্রকে চরম ভর্ৎসনা করা হয়। তাদের বক্তব্য, ঘটনার গভীর তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা দেখিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “কি বার্তা যাবে যদি আপনি গোটা শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের শেখান যে বিচার ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত? কী শিখবেন শিক্ষক বা অভিভাবকরা।”
এরপরই বইটিকে দেশে ও বিদেশে দুই জায়গাতেই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় বেঞ্চের তরফ থেকে। এই নির্দেশ দেওয়া হয় যেন অনলাইনেও বইটি প্রকাশিত না হয়। যেই বইগুলিতে বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি সংক্রান্ত অধ্যায় রয়েছে, তাও নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, শীর্ষ আদালতে নোটিস পাঠিয়েছে এনসিইআরটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান দুঃখ প্রকাশ করেছেন এই ব্যাপারে এবং পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বইতে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের কাজকর্মের কথা শুধু বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন বইতে ‘বিচার বিভাগের ভূমিকা আমাদের দেশে’ নামক অধ্যায়টিতে এর সঙ্গে তুলে ধরা হয় সেই সমস্যাগুলির কথা যার ফলে প্রভাব পড়ে বিচার ব্যবস্থার কাজকর্মের উপর। দুর্নীতির মতো বিষযও তাতে রয়েছে। এই অধ্যায়টিতে লেখা কিভাবে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রভাব পড়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের উপর।
বইতে লেখা হয়েছে, সাধারণ মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দুর্নীতি হতে দেখেন বিচার ব্যবস্থায় এবং এই কারণে সুবিচার পাওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় গরিব ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীদের জন্য। সেই কারণে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় এবং জুডিশিয়াল স্ট্রাকচারে স্বচ্ছতা আসে। এই বিষয়ে জল আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এবার সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হল পুরো বইটি নিষিদ্ধ করার, দেশে ও বিদেশে এবং অনলাইন ও অফলাইনে। পাশাপাশি, নোটিস পাঠানো হয়েছে এনসিইআরটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদকে। এনসিইআরটির তরফ থেকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়া সত্ত্বেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখার যে আগামীদিনে এই ঘটনায় আর নতুন কি হয়।



By












