দেবজিৎ মুখার্জি: রবিবার যেভাবে ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে দক্ষিণ আফ্রিকা বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে, তা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বহু ক্রিকেটপ্রেমীর। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার নয়, ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরাও প্রশংসা করেছেন তাদের খেলার। ব্যাটিং হোক কি বোলিং, দুটিতেই দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারে দশে দশ। বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা হাবুডুবু খাইয়েছেন, তা এক কথায় দেখার মতো।
যদিও এই দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা পেসার লুঙ্গি এনগিডি ক্রেডিট দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার, তথা কেকেআর মেন্টর, ডোয়েন ব্র্যাভোকে। তিনি জানান যে প্রাক্তন ক্যারিবিয়ান তারকা অলরাউন্ডারের থেকে তিনি বোলিং সংক্রান্ত অনেককিছু শিখেছেন এবং তা দেশের মাটিতে কাজে লাগিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বোলিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি বহুৎ পরিশ্রম করেছেন।
প্রোটিয়া তারকা পেসার বলেন, “তেমন সুযোগ পাইনি ২০১৮ সালের আইপিএলে। তবে কাজ করেছি ব্র্যাভোর সঙ্গে থেকে।” এরপরই প্রাক্তন ক্যারিবিয়ান তারকার সঙ্গে তাঁর শেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন এনগিডি। তাঁর বক্তব্য, “স্লোয়ার বোলিংয়ের বিষয়টা আমি ওর সঙ্গে থেকে পুরোটা শিখেছি। দেশের মাটিতে এসে তা কাজে লাগিয়েছি। অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে স্লো ইয়র্কার, ব্যাক অফ লেংথ বা স্লো বাউন্সার নিয়ে। স্লোয়ারে এই তিন রকমের ভেরিয়েশন কিভাবে আনা যায়, সেটা নিয়ে চেষ্টা চালিয়েছি।” প্রসঙ্গত, রবিবারের ম্যাচে তিনি চার ওভার বল করে দিয়েছেন ১৫ রান এবং তুলেছেন তিনটি উইকেট।
উল্লেখ্য, রবিবার ম্যাচটি খেলা হয় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। সেদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এডেন মার্করাম। তবে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্রুত তিনটি উইকেট হারায় তারা। তবে এরপরই একটি অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়েন ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। এরপর ঝড়ের গতিতে রান করেন ট্রিস্টান স্টাবস। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৮৭। সর্বোচ্চ ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন মিলার। এছাড়া ব্রেভিস করেন ৪৫ এবং স্টাবস অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে। টিম ইন্ডিয়ার বোলারদের মধ্যে তিনটি উইকেট পান বুমরাহ, দুটি আর্শদীপ এবং একটি করে বরুণ ও শিবম।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ১৯ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। দলের কোন ব্যাটারই ব্যাট হাতে তেমন দাগ কাটতে সফল হননি। সর্বোচ্চ ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন শিবম দুবে। এছাড়া কেউই তেমন ভালো ইনিংস তুলে ধরতে সফল হননি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট পান মার্কো ইয়ানসেন। এছাড়া তিনটি উইকেট নিজের ঝুলিতে তোলেন কেশব মহারাজ। দুটি উইকেট পান কর্বিন বশ এবং একটি এডেন মার্করাম। ব্যাট হাতে প্রভাবশালী ইনিংস খেলার জন্য ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় ডেভিড মিলারকে।



By













