দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সিপিএম ছেড়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রায় ২৪ ঘন্টা হতে চলেছে। তবুও এখনো তাদের রাজ্য কমিটিতে নাম রয়েছে প্রতীক উর রহমানের। ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ও সিপিএমের তরফ থেকে অবস্থান জানানো হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে বিশাল বড় শক খেয়েছে সিপিএম এবং স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। অন্যদিকে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ তৃণমূলকে গত ১৫ বছরে কারখানা না করতে পারা বা চাকরি না দিতে পারা নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন।
এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় প্রতীক উর রহমানের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই শুরু হয় জোর রাজনৈতিক তরজা। তীব্র কটাক্ষ করা হয় সিপিএমের তরফ থেকে। দলের বর্ষীয়ান ও প্রভাবশালী নেতারা এই ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। দলের অনেকেই বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি এবং চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে দেখা গেল যে এখনো প্রতীক উর রহমানের নাম রয়েছে সিপিএমের রাজ্য কমিটির তালিকায়। দলের নিজের ওয়েবসাইটে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির তালিকায় ৫৪ নম্বরে তাঁর নাম এখনো রয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষের বক্তব্য, “মহাম্মদ সেলিম এর উত্তর দিতে পারবেন।” এরপরই তাঁর খোঁচা, “আসলে ৪৪০ ভোল্টের শক খেয়েছে, তাই স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।” তবে পাল্টা দেওয়া হয়েছে শতরূপের তরফ থেকেও। তিনি বলেন, “বিশাল অপরাধ হয়ে গেছে। গত ১৫ বছরে ওরা বাংলায় একটাও কারখানা করতে পারেনি বা একজনকেও চাকরি দিতে পারেনি।” যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি যে নাম সরানো হয়েছে কিনা তালিকা থেকে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সিপিএমের কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন প্রতীক উর রহমান এবং এরপর লাগাতার আক্রমণ করেন সিপিএমকে। তাঁর সঙ্গে দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিল। বিমান বসুর তরফ থেকে চেষ্টা করা হয় তাঁর মান ভাঙার। কিন্তু তিনি তাতে সফল হননি। সেলিমের তরফ থেকেও এই বিষয়ে মতামত জানিয়ে দেওয়া হয়।
তবে এই সবকিছুর মাঝে শোনা যাচ্ছিল যে তিনি হয়তো শীঘ্রই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে সেটাই হল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক। তাঁর যোগদান করার সময়ে আলিমুদ্দিন থেকে তাঁকে বহিষ্কারের চিঠি আসে।



By










