দেবজিৎ মুখার্জি, মুর্শিদাবাদ: ভোটমুখী বাংলায় অন্যতম আলোচনার বিষয় বেলডাঙা অশান্তি। যে তাণ্ডব সেখানে চলেছে এক পরিযায়ী শ্রমিকের ভিনরাজ্যে মৃত্যুকে ঘিরে, তারপর থেকে রাজনৈতিক তরজা একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে বিষয়টি নিয়ে। আদালত থেকে শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ), কিছুই বাদ যায়নি। এক কথায় বলতে গেলে, ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।
এই আবহে প্রতিনিয়ত এই মামলায় আসছে নতুন মোড়। এখনো পর্যন্ত পুলিশের তরফ থেকে কেস ডাইরি তুলে দেওয়া হয়নি এনআইএর হাতে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার এনআইএ বিশেষ আদালত ২৬ তারিখের মধ্যে সিডি হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। শুনানি শেষে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকে মেল করা হয় মুর্শিদাবাদ পুলিশকে এবং কেস ডাইরি চাওয়া হয়। তবে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে এখনো পর্যন্ত কোন জবাব পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খন্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র অশান্তি ছড়ায় বেলডাঙায়। রীতিমতো তোলপাড় চলে সেই অঞ্চলে। পরেরদিনও দেখা যায় তীব্র অশান্তি। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা একেবারে চরমে পৌঁছায়। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ। জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট ও এনআইএ বিশেষ আদালত পর্যন্ত। পুলিশকে কোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় কেস ডাইরি এনআইএর হাতে তুলে দেওয়ার।
কিন্তু গত শুনানিতে পুলিশ সিডি এনআইএর হাতে তুলে না দেওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন বিচারক এবং জানতে চাওয়া হয় কেস ডায়েরি না দেওয়ার কারণ। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বলে, “পুলিশ যেখানে মার খেয়েছে ও আক্রান্ত, তার তদন্ত করছি আমরা। কেস ডাইরি দিচ্ছে না পুলিশ। হাই কোর্টের কোন নির্দেশ আনতে পারেনি। যদি মামলা করা হয়ে থাকে হাই কোর্টে, তাহলে তোর নিয়ে আসবে একটা অর্ডার বা নথি। আমরা তদন্ত করছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে। আমাদের তো কেস ডাইরি দিতে হবে।” এরপর কোর্টের তরফ থেকে ফের নির্দেশ দেওয়া হয় কেস ডায়েরি তুলে দেওয়ার। তবে জবাব এবারও আসেনি বলে খবর।



By










