দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: চলতি বছরে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। আর কয়েক মাসের মধ্যেই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের মুকুটে জুড়ল নতুন দুটি পালক। কী সেই দুই সাফল্যের পালক? তৃণমূল কংগ্রেসের মাটির সৃষ্টি প্রকল্পকে স্বীকৃতি জানানো হলো রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে। এখানেই শেষ নয়, স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচুর চালকে আন্তর্জাতিক ‘খাদ্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য’ হিসাবে। বুধবার নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে এই সুখবর তুলে ধরেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের ফাও-এর ডিরেক্টর জেনারেল যে শংসাপত্র পাঠিয়েছেন, তাও তিনি তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ইউএন আবারও আমাদের একটি পথিকৃৎ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউনাইটেড নেশনসের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (ফাও) আমাদের ‘মাটির সৃষ্টি’ কর্মসূচীকে দিয়েছে এই আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যবান স্বীকৃতির শংসাপত্র। আমাদের রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ২০২০ সালে আমরা যে পথপ্রদর্শক ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প শুরু করেছিলাম, তার বিপুল সাফল্যের জন্যই আন্তর্জাতিক স্তরের এই প্রশংসাপত্র। প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কার্যকর এই বহুমুখী প্রকল্পটিকে একটি অনন্য জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে ইউএন স্বীকৃতি দিল।”
তিনি আরো লেখেন, “‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পের মাধ্যমে, এক অনন্য বীক্ষায়, আমরা জমি, সেচ এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার নানা প্রকরণকে এক সূত্রে গেঁথেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য থেকেছে পশ্চিমাঞ্চলের রুক্ষ, অনুর্বর এবং একফসলি জমিকে উর্বর, বহুফসলি, ও বছরভর চাষযোগ্য করে তোলা। সুজলা ও উর্বর এইসব জমিতে এখন শাকসবজির ফলন ও ফলের চাষও হচ্ছে। পুকুর খনন ও অন্যান্য নতুন সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং গ্রামীণ পরিবারগুলির আয় বহুগুণ বেড়েছে।” প্রসঙ্গত, মাটির সৃষ্টি প্রকল্প চালু করা হয় ২০২০ সালে, যার অধীনে কর্মসূচি নেওয়া হয় পশ্চিমাঞ্চলের রাফ, ব্যারেন ও মোনো-ক্রপড জমিগুলিকে ফার্টাইল, মাল্টি-ক্রপড ও সারাবছর চাষের জন্য যোগ্য করে তোলা।
এরপর তৃণমূল সুপ্রিমো সুগন্ধি চালগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে আরও জানাচ্ছি যে, ইউএন (ফাও) এর পাশাপাশি বাংলার বিখ্যাত সুগন্ধি চাল— গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচুরকে আন্তর্জাতিক ‘খাদ্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য’ (ফুড অ্যান্ড কালচার হেরিটেজ) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেলের কাছ থেকে পাওয়া এই সার্টিফিকেটগুলো আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং আমাদের খাদ্য সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে এইসব আন্তর্জাতিক সম্মান বাংলার কাজের এক বিশাল স্বীকৃতি। এই গৌরব আমি গ্রামবাংলার সকল মানুষ, বিশেষ করে বাংলার কৃষক ভাই-বোনদের উৎসর্গ করছি।”



By










