দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ যে দিনদিন পাল্টাচ্ছে, তা প্রতিনিয়ত পরিষ্কার হচ্ছে। কিভাবে নিজেদের গড় ধরে রাখা যায় বা বিরোধীদের গড় তাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর পরিকল্পনা সমস্ত শিবিরের অন্দরে। এক কথায় বলতে গেলে, ‘বেঙ্গল টার্নিং ইনটু এ ব্যাটেলফিল্ড’। অর্থাৎ রণক্ষেত্রের চেহারা নিচ্ছে রাজ্য।
এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বড় বার্তা দিল গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে এই সংক্রান্ত ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে দলের নয়া রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে ইতিমধ্যেই দলের লোকসভা সাংসদদের কাছ থেকে তিনটি করে নাম চাওয়া হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। তবে সেগুলিই যে চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে, তেমনটা নয়। সমীক্ষা দলের তালিকাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ চলছে এই দুই তালিকা মিলিয়ে।
সূত্র মারফত আরো জানা গিয়েছে যে কয়েকদিন আগে রাজধানীতে একেক করে গেরুয়া শিবিরের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব। নির্বাচন সংক্রান্ত সবরকম আলোচনা হয়েছে বৈঠকগুলিতে। সুনীল বনসল ও ভূপেন্দ্র যাদব রয়েছেন প্রার্থী বাছাইয়ের ফাইনাল আউটলাইন তৈরির দায়িত্বে। যদিও কেন্দ্রীয় সূত্রের বক্তব্য, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দফায় দফায় আলোচনা করা হচ্ছে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। দিল্লিতে বৈঠকে সাংসদরা যে নামগুলি প্রস্তাব করেছেন, সেই ব্যাপারেও শমীক ভট্টাচার্যের অবজারভেশনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য বাংলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলা। শুধু তাই নয়, স্থানীয় নেতৃত্ব প্রাধান্য পেলে মনোবল বাড়বে কর্মীদের এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইও আরো শক্তিশালী হবে। এমনটাই মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই মুহূর্তে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জোরদার কাজকর্ম চলছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কারা জায়গা পান চূড়ান্ত তালিকায়। কাড়া প্রার্থী হয়ে ল ভোটের ময়দানে? তা বলবে সময়।



By










