দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: ফের হেনস্থার বিষয়ে শিরোনামে উঠে এলো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এক তরুণ ব্যক্তি মানসিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠালেন তাঁর সিনিয়র সহকর্মীদের বিরুদ্ধে। সমাজমাধ্যমে তিনি এই বিষয়ে একটি পোস্ট করেন এবং কী হয়েছে, তা তুলে করেন। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযুক্ত সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এমনকি আত্মহত্যার পথেও হাঁটতে পারেন বলে জানিয়েছেন।
সেই তরুণ খড়দহের বাসিন্দা এবং রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তন ছাত্র। মাস্টার্স করেছেন তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর ২০২৩ সালে তিনি সেখানে টেকনিক্যাল হেড পদে চাকরিতে যোগ দেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল মূলত দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করা। কিন্তু কাজের জায়গায় কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে, তা বলতে গিয়ে প্রত্যেকবার কেঁদে ফেলেন তরুণ।
তাঁর বক্তব্য, “চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রথম মাসের পর থেকে আমাকে কুকথা কথা বলতো সিনিয়র স্টাফরা। মূলত আমাকে বলতেন চন্দ্রলেখা সিনহা নামে ৭৩ বছর বয়সি একজন সিনিয়র স্টাফ। তখন আমি কিছু খুলিনি। আমায় দাঁড় করিয়ে রাখত ওরা অফিসের বাইরে। সই করতে দিত না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে দেওয়া হত বেতন। দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রীদের চন্দ্রলেখা সিনহা ও সঙ্গীতা হাজরা বলতেন রেজিস্ট্রারকে গিয়ে তোরা বলবি যে ও চালাতে পারে না কম্পিউটার এবং দুর্ব্যবহার করে। এভাবে আমার বদনাম করেন ওনারা।”
তরুণের আরো বক্তব্য, “আমি কর্তৃপক্ষকে মেল করে জানিয়েছিলাম যে কাজের পরিবেশ খারাপ এবং আমাকে হেনস্থা করা হয়। তারপর থেকে আমি নিশানা আরো বেশি করে হয়ে যাই। ওরা চেষ্টা করে আমাকে পাগল প্রমাণ করার এবং আমাকে কাউন্সেলিং করতে নিয়ে যায় জোর করে। রিপোর্ট আছে আমার এসএসকেএম হাসপাতালের যে আমি পুরো ফিট।” এই মুহূর্তে সেই যুবক কোথাও কর্মরত নন। অভিযুক্তদের নাম দেবাশিস বোস ওরফে মিরাজ, চন্দ্রলেখা সিনহা, সঙ্গীতা হাজরা। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে তাঁর তরফ থেকে। এবার দেখার আগে কি হয়।



By










