দেবজিৎ মুখার্জি, মুর্শিদাবাদ: প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারানোর জন্য অনুশোচনা বোধ জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের। কী বললেন তিনি? জেইউপি প্রধানের বক্তব্য, জেলার মানুষ এবং আমরা ভুল করেছি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারিয়ে। এর সঙ্গে ইউসুফ পাঠানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন যে তাঁকে জেতানোর জন্য ভোট দিতে বলাটা ভুল হয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “ইউসুফ তো আসেন না। একদিনও দেখা করতে যায়নি মানুষের সঙ্গে জয়ের পর। আজ আমরা অনুতপ্ত, ভোট দিতে বলেছিলাম মানুষকে ওঁর মতো একটা ফালতু লোককে বড় খেলোয়ার ভেবে।” এরপরই তিনি তোলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরীর প্রসঙ্গ। হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা ও জেলার মানুষ ভুল করেছি পাঁচবারের সাংসদকে হারিয়ে। এটা আমাদের ভুল যে আমরা ভোট দিতে বলেছিলাম যাতে ইউসুফ পাঠান জেতে।” যদিও এর সঙ্গে তিনি এই দাবিও করেন যে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত করা হবে ইউসুফ পাঠানকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “ক্ষমতা থাকলে জিতিয়ে দেখাবেন ওঁকে।”
তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে আচমকা কেন এতদিন পর এমন বক্তব্য হুমায়ুন কবিরের। অনেকে আবার এর মধ্যে জোট অঙ্ক দেখছেন। কয়েকদিন আগে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠকের পর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিম জানিয়েছিলেন যে তিনি জেইউপি প্রধানকে তিনটি বার্তা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি বহরমপুরের রাজনীতি। সেলিম জানিয়েছিলেন যে তাঁকে ও অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করার জন্য আরএসএস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে যে বিভাজনের রাজনীতি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে তাঁরা। এখানেই শেষ নয়, হিন্দুদের নিয়ে করা হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন যে সেটার জন্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল মুর্শিদাবাদে।
সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে যে সেলিমের নির্দেশেই কি সেই পথে হাঁটলেন হুমায়ুন? মহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠকের পরই বা কেন সুর বদল হুমায়ুনের? তিনি কি মেনে নিলেন যে হিন্দুদের নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তা ঠিক নয়? যদিও বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন যে জেইউপি প্রধানের মন্তব্য নিয়ে কোনও কৌতূহল নেই এবং তিনি মানুষের দ্বারা নির্বাচিত ও পরাজিত।



By










