দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: জোট নিয়ে বাম শিবিরের অন্দরে অব্যাহত মতপার্থক্য। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, এখনো পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান করতে সফল হয়ে উঠতে পারেনি তারা। বরং ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ব্যাপারে বাড়ছে সমস্যা। এমনিতেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে কংগ্রেস, তার উপর শরিকদের চাপ। সবমিলিয়ে, এই মুহূর্তে একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বামেরা।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফের সঙ্গে জোট একপ্রকার নিশ্চিত বামেদের। কিন্তু সমস্যা চলছে আসন ভাগাভাগি নিয়ে। যদিও এই ব্যাপারে নওশাদ চান দ্রুত সিদ্ধান্তে আসার। বৃহস্পতিবার প্রায় আড়াই ঘন্টা আলিমুদ্দিন বৈঠক চলে নওশাদ সিদ্দিকী ও বিমান বসুর মধ্যে। গতবারের চেয়ে এবার আরও বেশি আসন চাইছে আইএসএফ। বামেরা চাইছে ৩১-৩২ আসন ছাড়তে। কিন্তু আইএসএফ চাইছে ৪৩-৪৪। সুতরাং গোটা জোটের বিষয়টি এখন এর মধ্যে আটকে রয়েছে।
শুধু তাই নয়, আইএসএফের তরফ থেকে যে আসনগুলির দাবি করা হয়েছে, তাতে নজর রয়েছে অন্যান্য শরিকদেরও। অর্থাৎ তারাও চায় সেই আসন থেকে লড়তে। কিন্তু সেই আসনগুলি থেকে সিপিএম লড়ে এসেছে। সুতরাং সমস্ত আসন ছেড়ে দিলে দিনদিন অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে সিপিএম। ইতিমধ্যেই দলের বহু কর্মীদের তরফ থেকে সেই ব্যাপারটি জানানো হয়েছে নেতৃত্বের কাছে। আলিমুদ্দিনের বড় কর্তারা কর্মীদের সেই কথা নিয়েও ভাবছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন যে যেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বামেরা, সেটা যদি দ্রুত কাটিয়ে না উঠতে পারে, তাহলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল চাপে পড়বে তারা। যদিও অনেকে আবার মনে করছেন যে এতকিছু করার পরও খাতা খুলতে পারবে না বামেরা। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্তে আসে তারা। শরিকদের কি সন্তুষ্ট করা যাবে? নাকি দিনদিন ক্ষোভ আরও বাড়বে দলের অন্দরে। কী হয় শেষ পর্যন্ত? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।


By










