দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আবারো ঘটল একই ঘটনা! বেলডাঙ্গা মামলার অভিযুক্তদের তোলা গেল না জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) বিশেষ আদালতে। জানা গিয়েছে, ৩৬ জন অভিযুক্তকে আদালতে পেশ না করতে পারার পেছনে রয়েছে পুলিশ এসকর্ট না দেওয়া।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে জেল কর্তৃপক্ষকে মুর্শিদাবাদ পুলিশের তরফ থেকে রেডিও মেসেজ করে জানানো হয়েছে যে আজ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় যথেষ্ট পরিমাণ পুলিশের অভাব রয়েছে এবং সেই কারণে পাওয়া যাচ্ছে না এসকর্ট। যদিও বহরমপুর জেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল অভিযুক্তদের ভার্চুয়ালি আদালতে পেশ করার।
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খন্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র অশান্তি ছড়ায় বেলডাঙায়। রীতিমতো তোলপাড় চলে সেই অঞ্চলে। পরেরদিনও দেখা যায় তীব্র অশান্তি। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা একেবারে চরমে পৌঁছায়। এমনকি জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্তও। সেখানে জানানো হয় যে দরকার পড়লে কেন্দ্র এনআইএর সাহায্য নিতে পারে তদন্তের ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, এটাও জানানো হয় যে রাজ্য চাইলে বাড়তি বাহিনী চাইতে পারবে কেন্দ্রের থেকে। এরপরই এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সম্প্রতি সেখানে যান জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার কয়েকজন অফিসার।
এরই মাঝে জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। এনআইএ তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। বুধবার সেই মামলায় নিজেদের বক্তব্য জানায় আদালত। প্রধান বিচারপতির তরফ থেকে জানানো হয় যে প্রায় মাঝখানেক আগে এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দায়ের করা হয়েছে এফআইআরও। যদিও বেঞ্চের তরফ থেকে জানানো হয়নি যে ইউএপিএর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করার যৌক্তিকতা নিয়ে। তবে কোর্ট জানিয়েছে যে এনআইএকে সেই রিপোর্ট দিতে হবে।
কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে ফের রাজ্য সহযোগিতা করছে না এনআইএ তদন্তে। অভিযুক্তদের বহরমপুর জেল থেকে পাঠানো হচ্ছে না কলকাতায়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে জেলা পুলিশের তরফ থেকে এসকর্ট দেওয়া হয়নি। সেই কারণে আদালতে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। আজও একই ঘটনা ঘটে।



By










