দেবজিৎ মুখার্জি: শুক্রবার শীর্ষ আদালতে তীব্র ভর্ৎসনার সম্মুখীন হলেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর, ওরফে পিকে। বিহার বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোটের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন তিনি এবং সেখানেই তাঁকে এমন ভর্ৎসনার মুখোমুখি হতে হয়। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, এদিন সুপ্রিম কোর্টে প্রাক্তন ভোটকুশলী একটি বড় ধাক্কা খান।
২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়েছিল প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ। কিন্তু একটিতেও জিততে পারেনি তারা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল তাদের তরফ থেকে, যেহেতু নারীদের অ্যাকাউন্ট তাঁর সরকার ১০ হাজার টাকা করে নির্বাচনের আগে দিয়েছিল বলে। এই যুক্তি তুলেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন পিকে এবং ভোট বাতিল করার দাবি তোলেন। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।
উল্টে শীর্ষ আদালতের থেকে তাঁকে শুনতে হয় কড়া ভাষায় ধমক। কী বক্তব্য কোর্টের? প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, “আপনাকে ভোট দেয়নি মানুষ। তাই বিচারবিভাগকে এখন আপনি ব্যবহার করে প্রচার চাইছেন?” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর প্রশ্ন, “কি করে আপনি এই কথা বলতে পারেন? আপনিও তাই করবেন ক্ষমতায় এলে।”
এদিন সুপ্রিম কোর্ট প্রশান্ত কিশোরকে এই ব্যাপারে নির্দেশ দেয় বিহার হাই কোর্টে যাওয়ার। বিচারপতিরা বলেন, “গোটা দেশের সমস্যা তো নয় এটা। তাহলে আগে কেন এসেছেন সুপ্রিম কোর্টে? বিহার হাই কোর্ট আছে তো। সেখানে আগে যান।” প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, “আমরা সারা রাজ্যকে নিয়ে কোনও ঢালাও নির্দেশ দিতে পারি না কোনও রাজনৈতিক দলের অনুরোধে।” এবার দেখার বিষয় যে প্রশান্ত কিশোরের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয়। বিহার হাই কোর্টে পিকের এই আর্জির জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার। তবে আজ শীর্ষ আদালতে যা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা জন সুরাজ পার্টির জন্য।



By














