দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সম্প্রতি, আশা কর্মীদের বিক্ষোভ নিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল গোটা কলকাতা শহর। সেই কথা মাথায় রেখে রাজ্যের অন্তরবর্তী বাজেটে তাদের জন্য বিশেষ ঘোষণা করা হয় রাজ্যের তরফ থেকে। ১০০০ টাকা বাড়ানো হয় মাসিকভাতা। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নন আশা কর্মীরা। শুক্রবার ফের তাঁরা পথে নামেন। ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয় স্বাস্থ্য ভবনের সামনে।
এদিন ১১ দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেন আশা কর্মীরা। স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে তাঁরা জমায়েত করেন স্বাস্থ্যসচিবকে স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য। তবে তার আগেই তাঁদের পড়তে হয় পুলিশি বাধার মুখে। ব্যারিকেড বসিয়ে দেওয়া হয় এবং এরপরই দু’পক্ষ অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে, যা কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উগ্র হয়ে ওঠে। অবশেষে পথে বসেন আন্দোলনকারী আশা কর্মীরা।
কী দাবি আশা কর্মীদের? তাঁদের পরিষ্কার কথা যে তাঁরা বেতন চান, ভাতা নয়। তাঁরা বলেন, “হাজার টাকার জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। বেতন চেয়েছি আমরা। ভাতা বাড়াতে হবে না ওনাকে।” তাঁদের আরো বক্তব্য, “ফেরত দিচ্ছি ওই ১০০০ টাকা। বাড়িতে বসে লোকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত পাবে, আর আমরা বেতন পাবো না পরিশ্রম করে?”
এদিন আশা কর্মীদের আন্দোলনের নেত্রী ইসমাতারা খাতুন দাবি করেন যে সুবিচার হয়নি তাঁদের দাবির প্রতি। তিনি বলেন, “সুবিচার হলো না আমাদের দাবির প্রতি। আমরা যে আজ এই কর্মসূচি নেব, সে কথা আমরা গতকালই জানিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও কেন তৈরি করা হলো লৌহকপাট? মারপিট তো করতে আসিনি আমরা।” আশা কর্মীরা পরিষ্কার করে দেন যে মার্চ মাসের শেষ দিনের মধ্যে যদি তাঁদের দাবি না পূরণ করা হয়, তাহলে গোটা বছরের কাজ সংক্রান্ত যাবতীয় সব তথ্য তাঁরা তুলে ধরবেন না। এবার দেখার বিষয় যে এই আন্দোলনের শেষ কোথায়। কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে রাজ্য সরকার? এই মুহূর্তে এটাই একটা বড় প্রশ্ন।


By










