দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: “ফাঁসানো হয়েছে আমাকে” ফের একই দাবি করলেন সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান। কী বললেন তিনি? বুধবার বারাসাত আদালতে তিনি দাবি করেন যে তিনি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার। এখানেই শেষ নয়, যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে এর পেছনে কাদের হাত রয়েছে, তখন তিনি জবাবে বলেন যাঁরা কেন্দ্রীয় এজেন্সিদের নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁরা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে ৫ই জানুয়ারি সেখানে গিয়েছিলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। তবে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে তাঁদের পড়তে হয় বিপদের মুখে। তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি মারধর পর্যন্ত করা হয়। অবশেষে এলাকা থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় গোটা এলাকায়।
পরে শেখ শাহজাহানকে নিয়ে ক্ষোভের আগুনে জ্বলতে থাকে গোটা এলাকা। পথে নামেন সেখানকার মহিলারা। একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠে। এমনকি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত যায়। অবশেষে প্রায় মাস দুয়েক বাদে সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা ধরা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তাঁর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ থাকলেও তিনি লাগাতার দাবি করে চলেছেন যে তিনি কোনও অপরাধ করেননি। সিবিআইয়ের তরফ থেকে ইডি অফিসারদের মারধরের ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। বুধবার তাঁকে পেশ করা হয়েছিল বারাসাত আদালতে। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ফাঁসানো হয়েছে আমাকে। রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার আমি।” এরপরই প্রশ্ন ওঠে যে কারা তাঁকে ফাঁসিয়েছে? সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ইডি-সিবিআইকে নিয়ন্ত্রণ করে যাঁরা, তাঁরাই।” ইডি অফিসারদের উপর হামলার প্রশ্ন তিনি বলেন, “কোনও ভিডিও আছে আপনার কাছে? ভুলভাল বললেই হবে। জবাব দেবে মানুষ।”
উল্লেখ্য, সন্দেশখালিতে মহিলা ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল কংগ্রেসকে। তবে তারাও পাল্টা দেয়। তার মাঝেই পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে যখন একটি স্টিং ভিডিও ভাইরাল হয় এবং তাতে নাম জড়ায় এক বিজেপি নেত্রী মাম্পি দাসের। যেই মহিলারা ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন, তাঁরা দাবি করেন যে মাম্পি দাসের কথায় এমনটি করেছিলেন। পরে জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। মাম্পি দাস গ্রেপ্তার পর্যন্ত হয়েছিলেন। পরে জেলমুক্ত হয়ে দাবি করেন যে ধর্ষণের ঘটনাটি সত্য এবং তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ দেখে ছাড়বেন।



By










