দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “সিপিএমের জোট নিয়ে আগ্রহ নেই ভারতীয় জনতা পার্টির” বাম জোট প্রসঙ্গে এমনটাই দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কী বললেন তিনি? বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, একাধিক আসনে, যাঁরা রাষ্ট্রবাসী এবং প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাঁদের ভোট কেটেছিল সিপিএম। এখানেই শেষ নয়, তিনি এই অভিযোগও করেছেন যে হিন্দুভোট বিভ্রান্ত করে তৃণমূলকে তারা সাহায্য করেছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সিপিএমের জোট নিয়ে আগ্রহ নেই ভারতীয় জনতা পার্টির।” এরপরই নন্দীগ্রাম বিধায়ক ভোট কাটার অভিযোগ তোলেন বামেদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে ৫৫-৬০টি আসন মূলত রাষ্ট্রবাসী ও বাংলাদেশ থেকে এসেছেন প্রাণের ভয়ে, সিপিএম তাঁদের ভোট কেটেছিল। যাদবপুরে সৃজন, দমদমে সুজন, সকলেই ১১টা কি ১২টা লোকসভা আসন রয়েছে, বিশেষ করে হিন্দু ভোটকে বিভ্রান্ত করে তাঁদের ভোট নিয়ে সাহায্য করেছিল তৃণমূলকে।” এরপরই তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এবারের নির্বাচনে সেই অংশ সেলিম বা সুজন বাবুদের এই ধরনের কথা বিশ্বাস করবেন না। ভোট নষ্ট করবেন না আপনারা। ‘নো ভোট টু মমতা’ করুন।”
এরপরই বিজেপির লড়াই প্রসঙ্গে বলেন নন্দীগ্রাম বিধায়ক। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিজেপির লড়াই হবে দুর্নীতিগ্রস্ত পারিবারিক পার্টির সঙ্গে। আমাদের কাছে সেটা ফ্যাক্টর নয় এখানে অন্যরা কে কি করবে। আমার তো মনে হয় না যে সিপিএমের একটা আসনেও জেতার মতো অবস্থা আছে। ওদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে ২৯০টা আসনে। কংগ্রেস উত্তর দিনাজপুর ও মালদহে ২-১টা পয়েন্টে কিছুটা আছে। তাও স্থানীয় নেতৃত্বের জন্য। একদিকে নরেন্দ্র মোদির বিজেপির সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের লড়াই দার্জিলিং থেকে সমুদ্র পর্যন্ত।”
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে জোট নিয়ে সমস্যায় ভুগছে বামেরা। তাদের তরফ থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে আগ্রহ দেখানো হলেও কংগ্রেসের তরফ থেকে সেই আগ্রহ দেখানো হয়নি। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য চলছে দুজনের মধ্যে। পাশাপাশি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের বৈঠক দলকে আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিষয়টি জানাজানি হতে তাদের তীব্র কটাক্ষের শিকার হতে হয় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি ও হাত শিবির, সকলের থেকেই।



By










