দেবজিৎ মুখার্জি: অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া গোটা মহারাষ্ট্রে। তবুও সেই আবহে প্রশ্ন উঠছে যে সত্যিই কি তা বিমান দুর্ঘটনা নাকি কোনও ষড়যন্ত্র? বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে মারাঠা গড়ের রাজনীতিতে। তার মাঝেই উদ্ধবসেনার মুখপত্র সামনায় বোমা ফাটানো হলো। তাতে দাবি করা হলো যে উপমুখ্যমন্ত্রী সিংহাসনে সুনেত্রা পাওয়ার বসেছেন বিজেপির কারসাজিতেই।
সামনায় বলা হয়েছে, “এনসিপির দুই শিবির যে এক হোক, তা চাননি বিজেপি নেতৃত্ব এবং অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর দুই নেতা সুনীল তাৎকারে এবং প্রফুল্ল প্যাটেল। তা রোখার জন্যই রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে সুনেত্রা পাওয়ারকে।” পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অজিত জায়ার শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্তের পেছনে কাঁর হাত ছিল, তা নিয়ে। সেখানে বলা হয়েছে, “এই পদক্ষেপের ব্যাপারে জানতেন না শরদ পাওয়ার, সুপ্রিয়া সুলে বা পাওয়ার পরিবারের অন্য সদস্যরা।” শুধু তাই নয়, এটাও দাবি করা হয়েছে যে সুনেত্রা পাওয়ার বারামতি থেকে মুম্বই গিয়ে শপথ নেওয়ার কথা জানাননি কাউকে।
সামনাতে আরো দাবি করা হয়েছে, “অজিত পাওয়ারের মৃত্যু আরো বাড়িয়েছে তাঁর পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক বিবাদ। বহু নেতাই চান না যে সেই সমস্যার সমাধান হোক।” শিবসেনার (ইউবিটির) দাবি, অজিত পাওয়ারের শিবিরের নেতৃত্ব যাতে প্রফুল্ল প্যাটেলের হাতে না যায়, তার জন্যই রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে অজিত পাওয়ারের স্ত্রীকে। উদ্ধবসেনার মুখপত্র যে দাবি করেছে, তা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সুনেত্রা পাওয়ারকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তথা বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী, একনাথ শিণ্ডে। তবে রাজভবনে সুনেত্রা পাওয়ারের শপথ নেওয়ার আগে তাঁর নাম বিধান পরিষদীয় দলের বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়েছিল ছগন ভুজবলের তরফ থেকে। দলের সমস্ত বিধায়ক তাতে সম্মতিও দিয়েছিলেন। সুনেত্রা পাওয়ারের হাত ধরে মহারাষ্ট্র পেল তাদের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী।



By













