দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে গিয়ে বামেদের প্রশংসা করে বসলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে পাল্টা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি দাবি করলেন যে অমিত শাহ ইতিহাস জানেন না পশ্চিমবঙ্গের। এখানেই শেষ নয়, রাজ্যবাসী কিভাবে অত্যাচারিত হয়েছিলেন বাম আমলে, তাও তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার শিলিগুড়ির সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজের বক্তব্যে একাধিক ইস্যু তুলে কটাক্ষ করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতায় কমিউনিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। এর চেয়ে ভালো কমিউনিস্টরা। ওদের ভালো করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এসে। রাজ্যকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল বামেরা। আরও পিছিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। এবার বিদায় নিতে হবে তৃণমূলকে।”
এখানেই শেষ নয়, ঘাসফুল শিবিরের ‘মা-মাটি-মানুষ’ নিয়েও বক্তব্য তুলে ধরেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মা-মাটি-মানুষকে মমতা সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এই রাজ্যে নিরাপত্তা নেই মহিলাদের। অনুপ্রবেশকারীরা মাটি নিয়ে নিয়েছে। সিন্ডিকেট নিয়ে নাজেহাল মানুষ।” এরপর সকলকে তিনি বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার কথা জানান। অমিত শাহ বলেন, “বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে যদি এই তিনটি বিষয় রক্ষা করতে চান।”
শাহের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় পাল্টা জবাব দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা নেই অমিত শাহের। যদি উনি একটু সময় নিয়ে আমাদের রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস পড়তেন, তাহলে করতেন না এমন মন্তব্য।”
বামেদের শাসনের সময়ে বানতলা, ধানতলা, ছোট আঙারিয়া, চমকাইতলা, সিঙ্গুর, তাপসী মালিকের মতো বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, “অমিত শাহ এই ঘটনাগুলি জানেন না। কীভাবে রাজ্যবাসী বাম আমলে অত্যাচারিত হয়েছেন, সেগুলির ইতিহাস উনি পড়ে দেখুন।” তবে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, অমিত শাহকে পাল্টা দিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও। বর্ষিয়ান বাম নেতার বক্তব্য, “কোনও সার্টিফিকেট চাই না অমিত শাহের থেকে।”



By










