দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম জনপ্রিয় মুখ কাস্তে হাতুড়ি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া প্রতীক উর রহমান। তাঁর দলবদলের সময়ে জানা গিয়েছিল যে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের পেছনে হাত রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে কয়েকমাসের মধ্যেই পাল্টে গেল গোটা চিত্র। রাজ্যে ক্ষমতা হারালো তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয় ঋতব্রতকে।
এবার প্রশ্ন উঠছে যে ঋতব্রত বহিষ্কার হওয়ার পর কি প্রতীকও তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়বেন। এই ব্যাপারে তিনি পরিষ্কার করে দিলেন যে দলের সিদ্ধান্তই তাঁর সিদ্ধান্ত এবং প্রশ্ন ওঠেনা বিরোধিতার। পাশাপাশি বহিষ্কৃত বিধায়কের হাত ধরে প্রাক্তন শাসকদলে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঋতদার হাত ধরে আমি দলে আসিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে এসেছি। উনি দলে ছিলেন বলে কথা হত। এর বেশি কিছু নয়।” অর্থাৎ নিজের অবস্থানে প্রতীক স্পষ্ট করে দিলেন যে এই দুঃসময়ে তিনি দল ছেড়ে যাবেন না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সিপিএমের কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন প্রতীক উর রহমান এবং এরপর লাগাতার আক্রমণ করেন সিপিএমকে। তাঁর সঙ্গে দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিল। বিমান বসুর তরফ থেকে চেষ্টা করা হয় তাঁর মান ভাঙার। কিন্তু তিনি তাতে সফল হননি। সেলিমের তরফ থেকেও এই বিষয়ে মতামত জানিয়ে দেওয়া হয়।
তবে এই সবকিছুর মাঝে শোনা যাচ্ছিল যে তিনি হয়তো শীঘ্রই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে সেটাই হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন প্রতীক। তাঁর যোগদান করার সময়ে আলিমুদ্দিন থেকে তাঁকে বহিষ্কারের চিঠি আসে। ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের তারকা প্রচারকদের তালিকায়ও ছিলেন তিনি।



By










