• Home
  • বিনোদন
  • “একটি মিষ্টি পান আর ১০০ টাকার নোট!” কীভাবে বদলে গেল রফি-ভক্ত পান বিক্রেতা মনিরুদ্দিনের ভাগ্য?

“একটি মিষ্টি পান আর ১০০ টাকার নোট!” কীভাবে বদলে গেল রফি-ভক্ত পান বিক্রেতা মনিরুদ্দিনের ভাগ্য?

Image

সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করা তো অনেকেই দেখেছেন, কিন্তু নিজের ব্যবহারে একজন সাধারণ পান বিক্রেতার ভাগ্য বদলে দেওয়ার গল্প একমাত্র কালজয়ী শিল্পী মোহাম্মদ রফি (Mohammed Rafi)-র পক্ষেই সম্ভব। কোনো অলৌকিক জাদু নয়, স্রেফ শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা আর আশীর্বাদেই একটি সাধারণ পানের দোকান আজ আক্ষরিক অর্থেই পরিণত হয়েছে এক জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে।

আর এই অসাধ্য সাধন যার জীবনে ঘটেছে, তিনি হলেন সাধারণ পান বিক্রেতা মনিরুদ্দিন। রফি সাহেবের সামান্য স্পর্শ ও ভালোবাসায় আজ তাঁর সংসারের সমস্ত অভাব ঘুচে গিয়েছে।

সেই ঐতিহাসিক দিন: যখন মনিরুদ্দিনের পানের দোকানে রফি সাব

ঘটনাটি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মনিরুদ্দিন। তিনি জানান, রফি সাহেবের কাছে যখন তিনি পান নিয়ে যান, তখন স্বভাবসুলভ বিনয়ে রফি সাহেব জানিয়েছিলেন যে তিনি কোনো প্রকার নেশা করেন না।

কিন্তু মনিরুদ্দিন ছাড়ার পাত্র ছিলেন না। তিনি বুঝিয়ে বলেন যে মিষ্টি পান কোনো ক্ষতিকর নেশা নয়। পান বিক্রেতার মুখমণ্ডল ও আকুতি দেখে রফি সাহেবের মনে দয়া হয়। ভক্তের মন না ভেঙে পরম আদরে সেই মিষ্টি পান মুখে তুলে নেন তিনি।

এক আবেগঘন মুহূর্ত: “পান খেয়ে ভীষণ খুশি হয়ে রফি সাব আমাকে ১০০ টাকার একটি নোট দেন। আমি টাকা নিতে দ্বিধা করছিলাম, কিন্তু তিনি বললেন— টাকাটা না নিলে তিনি মনে কষ্ট পাবেন। অগত্যা না নিলে কষ্ট পাবেন বলে টাকাটি নিই আমি,” কথাগুলো বলতে বলতে চোখ মোছেন মনিরউদ্দিন।

উপচে পড়া ভিড় ও আয়ের তিন গুণ বৃদ্ধি

রফি সাহেবের সেই আশীর্বাদ ধন্য ১০০ টাকার নোট এবং তাঁর শুভকামনাই মনিরুদ্দিনের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। সেই দিনের পর থেকে মনিরুদ্দিনের দোকানের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

  • দোকানের আয়: আগের তুলনায় তাঁর পানের দোকানের বিক্রি ও আয় রাতারাতি প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়।

  • দর্শনীয় স্থান: সাধারণ একটি পানের দোকান ধীরে ধীরে রফি-ভক্তদের কাছে একটি বিশেষ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়।

  • সংসারে সুখ: মনিরুদ্দিন বলেন, “সাব হয়তো কোনোদিন আর আমার দোকানে পা দেননি, কিন্তু ওর দোয়ায় আজ বউ-বাচ্চা নিয়ে পরম সুখে আছি।”

গান শুনিয়ে শ্রদ্ধা ও ভক্তের চরম কৃতজ্ঞতা

সেই অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার পর থেকেই মনিরুদ্দিনের ধ্যান-জ্ঞানজুড়ে শুধুই মোহাম্মদ রফি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রিয় গায়ককে দেওয়ার মতো তাঁর কাছে কিছু নেই। তাই নিজের দোকানে আসা প্রতিটি খদ্দেরকে রফি সাহেবের গান শুনিয়েই তিনি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মনিরুদ্দিনের কথায়, “রফি সাবের দোয়াতেই আজ আপনাদের মতো বড় বড় মানুষের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। আপনারা আমাকে নিয়ে খবরের কাগজে বা ব্লগে লেখেন, আর আমার বিশ্বাস— নেপথ্যে থেকে আমার রফি সাব এসবই দেখতে পাচ্ছেন।”

Releated Posts

“কাজ এখনও শেষ হয়নি!” জীবনকৃতি সম্মান প্রত্যাখ্যান করে অবসরের জল্পনা ওড়ালেন নসীরুদ্দীন শাহ্

আমাকে একাধিক জীবনকৃতি সম্মান প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমি ‘না’ বলেছি। জীবনকৃতি সম্মান দেওয়া মানে ইঙ্গিতে বোঝানো যে,…

ByByHafizur Rahaman Aug 2, 2026

ভক্তির নতুন উচ্চতা: ভক্তের ভালোবাসায় কীভাবে তৈরি হলো ‘রফি মন্দির’?

বানিয়ে গল্প বলছিনা, এক ভক্ত তার পাগলামো কে কি উচ্চতায় নিয়ে গেলে এই কাণ্ড ঘটাতে পারে তার প্রমাণ…

ByByHafizur Rahaman Aug 2, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top