১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষলগ্নে জাপানের হিরোশিমা শহরে ফেলা পারমাণবিক বোমার ধ্বংসলীলা মানব ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়। তবে আট দশক পর সেই বিভীষিকাময় পারমাণবিক বিস্ফোরণস্থল থেকেই বিজ্ঞানীদের হাতে এল এক অভাবনীয় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। হিরোশিমার বিস্ফোরণস্থলের ধ্বংসাবশেষ থেকে গবেষকরা একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং অজানা ধাতু সংকর বা অ্যালয় (Alloy) আবিষ্কার করেছেন।
হিরোশিমা উপসাগরের সৈকত থেকে সংগৃহীত কাচের মতো স্বচ্ছ কিছু ক্ষুদ্র দানা, যা হিরোশিমাইট (Hiroshimaite) নামে পরিচিত, তার ভেতর থেকেই এই বিরল উপাদানটির সন্ধান পাওয়া গেছে।
যেভাবে তৈরি হয়েছিল এই বিরল ‘হিরোশিমাইট’ উপাদান
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরমাণু বোমা ছোঁড়ার পর যে তীব্র তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের ঘরবাড়ি, ভবন নির্মাণের সামগ্রী, কাদা-মাটি এবং নানা ধরনের ধাতু গলে যায়। শুধু তা-ই নয়, অতি-উচ্চ তাপে এগুলো বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে সেই বাষ্পীভূত উপাদানগুলো বায়ুমণ্ডলে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টির ফোঁটার মতো মাটিতে ঝরে পড়ে। তরল অবস্থা থেকে দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে জমাট বাঁধার কারণে তৈরি হয় কাচসদৃশ ক্ষুদ্র দানা— যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘হিরোশিমাইট’।
আণুবিক্ষণিক কণা ও অদ্ভুত গঠন বৈচিত্র্য
গবেষকরা যখন আধুনিক ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে এই হিরোশিমাইটের দানাগুলো রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, তখন এর ভেতরে একটি মাইক্রোমিটার আকৃতির বিশেষ ধাতব কণা দেখতে পান। রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি স্রেফ সাধারণ কোনো ধাতু নয়।
নতুন ধাতুর রাসায়নিক মিশ্রণ ও বৈশিষ্ট্য:
• উপাদান: লোহা (Fe), ক্রোমিয়াম (Cr), নিকেল (Ni), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), সিলিকন (Si) এবং অ্যালুমিনিয়াম (Al)।
• বৈশিষ্ট্য: একাধিক উপাদানের অত্যন্ত জটিল মিশ্রণ, যার স্ফটিক বা ক্রিস্টাল কাঠামো একেবারেই অনন্য।
• তুলনীয় রূপ: এটি অস্বাভাবিক উচ্চ-এনট্রপির অ্যালয় (High-Entropy Alloys) এবং কোয়াসিক্রিস্টালের (Quasicrystals) সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, অত্যন্ত চরম তাপমাত্রা ও চাপের দরুন এই রাসায়নিক যৌগটি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হয়েছে। প্রকৌশল ও ধাতুবিদ্যা (Metallurgy) জগতে এ ধরনের উপাদানগুলো তাদের অসাধারণ শক্তি, নমনীয়তা এবং স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়।
________



By













