ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে ফের এক নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেপাল সরকারের নতুন এক রুপির মুদ্রা বাজারে আনার ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলল। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক’ (Nepal Rastra Bank – NRB) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আকার ও ওজনে পরিবর্তন আনা হলেও নতুন এই মুদ্রার নকশায় ভারতের সাথে বিরোধপূর্ণ বিতর্কিত অঞ্চলগুলি স্থান পাচ্ছে।
১ টাকার নতুন মুদ্রা ও নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত
নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্কের মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পাউডেল জানিয়েছেন, বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা এক রুপির নতুন কয়েনটি আগের চেয়ে আকারে ছোট ও ওজনে কিছুটা হালকা হতে চলেছে। তবে কয়েনটির মূল নকশায় কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। ২০২০ সালে নেপালের মানচিত্রে যুক্ত হওয়া বিরোধপূর্ণ অঞ্চলগুলি—লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি—নতুন এই মুদ্রাতেও বজায় রাখছে নেপাল সরকার।
বিতর্কিত এলাকা ও বিরোধের প্রেক্ষাপট
ভারত ও নেপালের মধ্যে এই মানচিত্র বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের মূল তথ্য:
• বিতর্কিত এলাকা: কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা (প্রায় ৩৭০ বর্গকিমি)।
• ২০২০ সালের পদক্ষেপ: কেপি শর্মা ওলির সরকার সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ করে এলাকাগুলিকে নেপালের অংশ দাবি করে।
• ভারতের অবস্থান: নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই সমস্ত অঞ্চল ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিকভাবে ভারতের উত্তরাখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাজনৈতিক চাপ ও সরকারের সিদ্ধান্ত বদল
মানচিত্র নিয়ে নেপালের অভ্যন্তরেও চলেছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সরকার মুদ্রার নকশায় পরিবর্তন এনে বিতর্কিত মানচিত্রটি বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তার বদলে মুস্তাং জেলার ঐতিহাসিক ‘লো ঘ্যাকর মঠ’ (Lo Ghyakar Monastery)-এর ছবি যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় বর্তমান সরকার। ফলে পুরনো বিতর্কিত মানচিত্রটিকেই নতুন মুদ্রায় বহাল রাখা হয়।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের এই পদক্ষেপ নয়া দিল্লির সাথে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।
________



By














