দেবজিৎ মুখার্জি: সম্প্রতি, সংসদে তুলকালাম চলে দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের আনপাবলিশড মেমোয়ার নিয়ে। কংগ্রেস সাংসদ, তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা, রাহুল গান্ধী সেই বইয়ের অংশ না পড়তে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। বুধবারও হইচইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কারণ সোনিয়াপুত্র জানিয়েছেন যে তিনি নিজের হাতে প্রধানমন্ত্রীকে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের এই বিতর্কিত পুস্তকটি দেবেন। এখানেই শেষ নয়, এই সংক্রান্ত আরো একাধিক কথা বলেছেন রাগা।
বুধবার সংসদে রাহুল গান্ধী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আসার সাহস নেই সংসদে। যদি উনি আসেন, তাহলে আমি সশরীরে ওনার কাছে যাব এবং বইটি নিজের হাতে ওনাকে দেব, যাতে উনি সেটা পড়তে পারেন এবং সত্যিটা গোটা দেশ জানতে পারে।” এর সঙ্গে বইটির গুরুত্বের কথা জানান রাহুল। তিনি বলেন, “দেশের যুবসমাজের জানা উচিত এই বইয়ের অস্তিত্বের কথা। নারাভানের বই এটা। এখানে লাদাখ নিয়ে পুরো বিষয় রয়েছে। আমি উদ্ধৃত করতে পারব না এই বইকে, আমায় বলা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, বইটিতে ২০২০ সালে ডোকলাম সীমান্তে ভারত-চীনের লড়াইয়ের কথা লেখা রয়েছে। কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের তরফ থেকে, তা তুলে ধরা হয়েছে। সেই অংশটি রাহুল গান্ধী গত সোমবার পড়তে চেয়েছিলেন সংসদে। কিন্তু অভিযোগ, তাঁকে পড়তে দেওয়া হয়নি। বাধা দেওয়া হয়েছিল রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কিরেন রিজিজুদের তরফ থেকে।
পরে সেই অংশ প্রকাশ করে হাত শিবির, যেখানে প্রাক্তন সেনাপ্রধান লিখেছেন, তিনি ২০২০ সালের ৩১শে অগাস্টে কমান্ডের প্রধান লেফটেনান্ট জেনারেল যোগেশ জোশীর থেকে ফোনে জানতে পারেন যে পূর্ব লাদাখের কৈলাস রেঞ্জের দিকে এগোচ্ছে পায়ে হাঁটা সেনা সহ চীনের সেনার চারটি ট্যাংক। খবর পাওয়ামাত্রই বিষয়টি জানানো হয় রাজনাথ সিংহ, এস জয়শঙ্কর, বিপিন রাওয়ত, অজিত ডোভালকে। কোনও নির্দেশ না আসায় ঘন্টাখানেক পর আবার ফোন করা হয় রাজনাথ সিংকে। তখনো তা পাওয়া যায়নি। শেষে ফের ফোন করা হলে রাজনাথ সিং জানান যে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে যেটা ঠিক মনে হয় সেটাই করতে বলেছেন। অর্থাৎ দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয় পুরো সেনাপ্রধানের উপর।



By












