• Home
  • জেলার খবর
  • প্রোটোকল ভঙ্গ: রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

প্রোটোকল ভঙ্গ: রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মুর বঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের অন্য কোনও মন্ত্রীর উপস্থিত না থাকা নিয়ে যে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের বিরুদ্ধে, এবার সেই ঘটনায় এলো নতুন মোড়! কেন প্রোটোকল ভাঙা হয়েছে? সেই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রিপোর্ট চাইলো রাজ্যের কাছ থেকে। রবিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলে খবর। 

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার থেকে। শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আসেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে। সেখানে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি এই অভিযোগ তোলেন যে রাজ্যে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়নি। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এসেছেন অথচ মুখ্যমন্ত্রী বা দলের অন্য কোন মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। এমনটা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রোটোকল ভাঙ্গার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে এবং ভালবাসি বাংলার মানুষকে। বোধহয় মমতা রাগ করেছেন এবং সেই কারণে তিনি বা অন্য কোন মন্ত্রী আসেননি আমাকে স্বাগত জানাতে। যাই হোক সেটা কোন বড় ব্যাপার নয়।”

বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “এটি লজ্জাজনক এবং অভুতপূর্ব। গণতন্ত্র  এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন  সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকাভাবে দেখছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।” 

তবে পোস্ট করে পাল্টা দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে। যদিও শনিবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে কেন তিনি যেতে পারেননি। কিন্তু তা সত্বেও তরজা তুঙ্গে যাওয়ায় তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিষয়টি সম্পর্কে জানান এবং গেরুয়া শিবিরকে পাল্টা একহাত নেন।

এবার এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে নবান্নের রবিবার সকালে বার্তা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জানতে চাওয়া হয়েছে যে ঠিক কি ঘটেছে রাষ্ট্রপতির সফরে, প্রশাসনের ভূমিকা কি ছিল? এদিন বিকেল পাঁচটার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে তিনি রিপোর্টে কি বলেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সকল রাজ্যবাসীর। কি হয় আগে, সেটাই এখন দেখার।

Releated Posts

আনুষ্ঠানিকভাবে ইতি তৃণমূল সরকারের অধ্যায়, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্যপাল

তৃতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সাংবিধানিক মেয়াদ ছিল ৭ তারিখ অবধি। নিয়ম অনুসারে পুরোনো বিধানসভার কার্যকারিতা আর থাকে না…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট রামগোপাল ভার্মার

তাঁর দাবি, অনেক বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও এমন অবস্থান তাঁর কাছে অবাক করা বিষয়। তিনি মনে করেন যে…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

শুরু হয়েছে রাজ্যের নানা হলে ‘দ্যা বেঙ্গল ফাইলস’ দেখানোর পরিকল্পনা

টানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতা অতিক্রম করে অবশেষে রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির পথে এগোলো। শহরের পাশাপাশি জেলার বহু…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

চন্দ্রনাথের হত্যা নিয়ে মতামত জানালেন রুদ্রনীল-অগ্নিমিত্রা

ঘটনাটি নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য তুলে ধরেন বিজেপি নেতা, তথা বিশিষ্ট অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেন যে…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top