দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: এবার ২১শে জুলাই ‘শহীদ দিবস’ সভাকে ঘিরে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে মমতাপন্থী ও ঋতপন্থী তৃণমূলের মধ্যে। এদিন সন্ধ্যায় ঋতপন্থী তৃণমূলের তরফ থেকেও ‘শহীদ দিবস’ পালন করতে চেয়ে সরাসরি চিঠি দেওয়া হয়েছে কলকাতার সিপিকে। এমনিতেই অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের পর যেভাবে দুই তৃণমূলের মধ্যে অশান্তি চলছে, তার উপর এই ঘটনা চাঞ্চল্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।
কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ করে ঋতব্রত তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেছেন, ‘‘যারা পরিষদীয় দলই গঠন করতে পারে না বিধানসভায়, সংখ্যাই নেই, তারা আবার কী ২১ জুলাই পালন করবে? আমরা ওই দিনটি পালন করতে চাই শহিদ পরিবারগুলিকে এনে। এতদিন আসল শহিদ পরিবারই হারিয়ে যেত নায়ক-নায়িকাদের ভিড়ে। এবার শহিদ দিবসে তাঁদের আমরা প্রকৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে চাই।”
এদিন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠক হয় তপসিয়ার হোটেলে, যাতে ছিলেন ৫০ জন কাউন্সিলরও। এরপর বেরিয় আখরুজ্জামানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে তাঁরা কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে আগামী ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালনের জন্য চিঠি দিয়েছেন। এদিন বিকেলেই একই দাবিতে পুলিশের অনুমতি চেয়েছে কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কোন পন্থী তৃণমূল সফল হয়।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ‘শহিদ দিবস’ সভা পালন ঘিরে ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে দলের এতে কোন আপত্তি নেই, কিন্তু সমস্ত নিয়ম মেনে করতে হবে। অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেস তীব্র কটাক্ষ করেছে। সব মিলিয়ে, এই মুহূর্তে এটি একটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে দেখার যে এই সভা যদি পালন করতে সফল হয় কালীঘাট তৃণমূল, তাহলে তারা দাগ কাটতে পারে কিনা।



By










