• Home
  • জেলার খবর
  • অস্বস্তি বৃদ্ধি তৃণমূলের! ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গে বৈঠক জাভেদ-শিউলিদের

অস্বস্তি বৃদ্ধি তৃণমূলের! ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গে বৈঠক জাভেদ-শিউলিদের

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি দ্বিগুণ করলেন দলের বিধায়ক জাভেদ খান, শিউলি সাহারা। এমএলএ হস্টেলে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক হয় ঋতব্রত-সন্দীপনদের। সোমবার রাতে শিউলি সেই জল্পনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়, দল থেকে বহিষ্কৃত।” এমএলএ হস্টেলে ঘর দেখতে এসেছিলেন তিনি বলে উসকে রাখলেন বৈঠকের জল্পনা। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। মঙ্গলবার স্পিকারের কাছে চিঠি দিতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ঘাসফুল শিবিরের ৫০ জন বিধায়ক। সূত্র মারফত খবর, স্পিকারের কাছে চিঠি যাবে ঋতব্রতকে দলনেতা করে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ বলে।

অন্দরের খবর, জল মাপা শুরু হয়ে যায় ঋতব্রত-সন্দীপন বহিষ্কারের পরেই। সোমবার প্রথম বৈঠক হয় বাইপাসের ধারে একটি ঘরে, ফের সন্ধেয় নতুন করে বৈঠক হয়েছে এমএলএ হস্টেলের ঘরে। তাতে উপস্থিত ছিলেন মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিধায়করা সহ জাভেদ খান, শিউলি সাহা। সূত্র মারফত খবর, ছিলেন মোট ১৫-১৬ জন বিধায়ক। এই কথা ও শোনা যাচ্ছে যে তাঁরা বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিতে পারেন আগামী ২-১ দিনের মধ্যে। তাহলে কি আরো বৃদ্ধি হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা? হস্টেল থেকে বেরোনোর পথে শিউলি বলেন, “নিজের ঘর দেখতে এসেছিলাম। দেখলাম বসে ঋতব্রত-সন্দীপনরা। গেলাম একটু চা খেয়ে।” এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও তিনি করেন “বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়, দল থেকে বহিষ্কৃত।” 

উল্লেখ্য, বর্তমানে একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, যার মধ্যে অন্যতম বিধানসভায় সই বিতর্ক। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই ঘাসফুল শিবিরের একাধিক বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি। শুধু বিধায়ক নন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছেন সিআইডির আধিকারিকরা। নানা প্রশ্ন এই মুহূর্তে ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটিকে নিয়ে। 

এই আবহে সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তরফ থেকে জানানো হয় যে স্পিকারকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা এবং তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় অভিযোগ জানায় হেয়ার স্ট্রিট থানায়। এখানেই শেষ নয়, এদিন মুখ্যমন্ত্রী এও জানান যে বিষয়টি পুলিশমন্ত্রী হিসেবে জানার পরই তিনি সিআইডিকে তদন্ত যুক্ত করার নির্দেশ দেন। 

শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই সিদ্ধান্তের পর নিজেদের অবস্থানে দুই বহিষ্কৃত বিধায়ক জানান, “১৯ তারিখ কালীঘাটের অফিসে সই করানো হয়েছিল যে অ্যাটেনডেন্স খাতায়, তারই পাতা ছিঁড়ে জমা দিয়ে রেজুলেশনের কাগজ বলে দাবি করা হয়েছিল। এ তো সম্পূর্ণ অনৈতিক। আজ দল বহিষ্কার করলো সেই কাজের প্রতিবাদ করেছি বলে।” দুই বিধায়কের তোপ, এর মানে দল সমর্থন করে অনৈতিক কাজকেই। এছাড়া এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ঋতব্রত। তিনি এও জানান যে তিনি সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে চিঠি লিখে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top