দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গ সফর ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য কোন মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত না জানাতে আসায় ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও কেন আসা সম্ভব হয়নি, তা ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকেই পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে। পরে সেই সমস্ত অভিযোগ একটি পোস্টের মাধ্যমে উড়িয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি।
শনিবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আসেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে। সেখানে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি এই অভিযোগ তোলেন যে রাজ্যে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়নি। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এসেছেন অথচ মুখ্যমন্ত্রী বা দলের অন্য কোন মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। এমনটা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রোটোকল ভাঙ্গার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে এবং ভালবাসি বাংলার মানুষকে। বোধহয় মমতা রাগ করেছেন এবং সেই কারণে তিনি বা অন্য কোন মন্ত্রী আসেননি আমাকে স্বাগত জানাতে। যাই হোক সেটা কোন বড় ব্যাপার নয়।”
বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “এটি লজ্জাজনক এবং অভুতপূর্ব। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকাভাবে দেখছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”
এই ঘটনা এবার মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও গতকালই তিনি এই ব্যাপারে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে যাবতীয় কারণ তুলে ধরেছিলেন। পরে শনিবার এক্স হ্যান্ডেলেও নিজের অবস্থান জানান। সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি লিখেছেন, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে তাঁদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল শিলিগুড়িতে। তবে যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না এই অনুষ্ঠানের। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও রাষ্ট্রপতি সচিবালয়কে বিষয়টি জানানো হয় লিখিতভাবে এবং ফোনে। সচিবালয়ের আধিকারিকরা পরিদর্শন করেন সভাস্থল ৫ তারিখে। সেখানেও এই ব্যাপারে জানানো হয় তাঁদের। তারপরও নির্ধারিত দিনে করা হয় এই কর্মসূচি।”
তিনি আরো লেখেন, “শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সেখানে যান উনি পা রাখার পর। প্রথা মেনেই তাঁকে অভ্যর্থনা ও বিদায় জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে স্বাগত জানানো বা অনুষ্ঠান মঞ্চে থাকার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না ওই অনুষ্ঠানে। প্রোটোকল ভাঙার কোন প্রশ্নই ওঠে না কারণ সেখানে উপস্থিত ছিল জেলা প্রশাসন।” তাঁর সংযোজন, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে বিজেপি নিজেদের স্বার্থের জন্য অপব্যবহার ও অসম্মান করছে দেশের সর্বোচ্চ পদকে।” এবার দেখার বিষয় যে এর জল কতদূর গড়ায়।



By










