নতুন আইফোন কেনার কথা ভাবছেন? নাকি নতুন মডেল আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন? প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য আসতে চলেছে বড় ধাক্কা। বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর জয়যাত্রার জেরে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে মেমোরি চিপের বাজারে। আর এই ‘চিপফ্লেশন’ (Chipflation)-এর প্রভাবে আসন্ন আইফোন ১৮ (iPhone 18) সিরিজের দাম পূর্ববর্তী মডেলগুলির তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮,০০০ থেকে ১৭,০০০ টাকা) পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকেরা।
এআই বুম ও চিপ সংকটের নেপথ্য কারণ
বিশাল ডেটা সেন্টারে এআই পরিষেবা চালাতে বিপুল পরিমাণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি চিপের প্রয়োজন হচ্ছে:
-
চারগুণ বৃদ্ধি: গত এক বছরে মেমোরি কম্পোনেন্টের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় চারগুণ বেড়েছে। মরগান স্ট্যানলি এই সংকটকে ‘চিপফ্লেশন’ আখ্যা দিয়েছে।
-
অন্যান্য গ্যাজেটেও প্রভাব: কেবল স্মার্টফোন নয়, কম্পিউটার, গেমিং কনসোল এবং স্মার্ট-হোম ডিভাইসের উৎপাদন খরচও হু-হু করে বাড়ছে।
-
টিম কুকের বয়ান: মেমোরি চিপের এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিকে ‘১০০ বছরের বন্যা’-র সাথে তুলনা করে ইতিমধ্যেই ম্যাক, আইপ্যাড ও হোমপডের দাম ৫০০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে অ্যাপল।
আইফোন ১৮ সিরিজ ও বাজারের সম্ভাব্য চিত্র
আইডিসি (IDC)-র আইটি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রেড রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি পূর্বাভাস:
গ্রাহক ও টেলিকম সংস্থাগুলির ওপর প্রভাব
দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
-
টেলিকম ছাড়ের অভাব: AT&T, T-Mobile বা Verizon-এর মতো টেলিকম জায়ান্টগুলি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দামি আইফোনে অতিরিক্ত ছাড় বা ট্রেড-ইন অফার দিয়ে ক্ষতি সইতে তারা রাজি নয়।
-
পুরনো ফোন মেরামতের প্রবণতা: নতুন ফোনের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে নতুন হ্যান্ডসেট কেনার বদলে পুরনো ফোন মেরামত করে ব্যবহারের প্রবণতা হু-হু করে বাড়ছে।
-
দীর্ঘমেয়াদী সংকট: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এআই-এর চাহিদা বজায় থাকলে চিপের এই খরচের চাপ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।
ফলে কেবল উন্নত ফিচারের আশায় না বসে, এখনই ফোন কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে নাকি বাড়তি দাম দিয়ে আইফোন ১৮-এর জন্য অপেক্ষা করবেন—সেই কঠিন সিদ্ধান্তই এখন গ্রাহকদের সামনে।



By












