দীর্ঘদিন অচল হয়ে পড়ে থাকা বেহালা বিমানবন্দরকে (Behala Airport) আঞ্চলিক বিমান চলাচলের উপযোগী করে তুলতে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে এবং প্রশাসনিক প্রতিনিধিদলের যৌথ উদ্যোগে স্থল জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, গোপালপুর, বেহালা ও পোরুই মৌজা মিলিয়ে বিমানবন্দরে বর্তমানে আনুমানিক ২১৫.৬ একর জমি রয়েছে, যার রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯১৫ মিটার। এই পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে ‘এটিআর-৭২’ (ATR-72) ধরনের ছোট যাত্রীবাহী বিমান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং চার্টার্ড ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমানবন্দরের পরিকাঠামো ও প্রস্তাবিত রূপরেখা
একসময় পাইলট প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বেহালা বিমানবন্দরটি প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের প্রধান দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | বর্তমান স্থিতি ও পরিকল্পনা |
| জমির পরিমাণ ও রানওয়ে | মোট জমি ২১৫.৬ একর এবং রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯১৫ মিটার। |
| প্রস্তাবিত পরিষেবা | আঞ্চলিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং ব্যক্তিগত চার্টার্ড বিমান পরিষেবা। |
| কৌশলগত গুরুত্ব | গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনগামী পর্যটকদের সুবিধা এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক (দমদম) বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমানো। |
| রাজনৈতিক ও কেন্দ্রীয় উদ্যোগ | রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে এটিআর-৭২ চালানোর প্রস্তাব দেন। কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। |
বাস্তবায়নের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ
আকাশ ও স্থল জরিপ ইতিবাচক হলেও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিমান চালুর ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় বাধা রয়েছে:
-
উঁচু ভবন ও হাই-রাইজ বাধা: বিমানবন্দরের সীমানার ঠিক সংলগ্ন এলাকায় বহু বহুতল গড়ে ওঠায় ডিজিসিএ (DGCA)-র উড্ডয়ন বিধি অনুযায়ী তা বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
-
সংকীর্ণ প্রবেশপথ ও জবরদখল: বিমানবন্দরে পৌঁছানোর রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং সীমানা প্রাচীর ঘিরে কিছু বেআইনি দখলের সমস্যা রয়েছে।
-
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক অনুমোদন: উড্ডয়ন সুরক্ষার স্বার্থে উঁচু ভবনের নো-অবজেকশন শংসাপত্র (NOC) পুনর্মূল্যায়ন এবং পুরো চত্বরের নিরাপত্তা বলয় মজবুত করে ডিজিসিএ-র চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে হবে।
সব বাধা কাটিয়ে এই প্রকল্প সফল হলে দক্ষিণ কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিল্প, বাণিজ্য ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।



By













