দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: কলকাতার পার্ক সার্কাসে সোরাবর্দি অ্যাভিনিউর নাম বদল বিতর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কী বললেন তিনি? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর বক্তব্য, “বেশ করেছি! কোনও নাম-নিশানা থাকবে না।” এখানেই শেষ নয়, তিনি এই মন্তব্যও করেন, “আগামী দিনে যেগুলো সেকুদের আছে, দেখা হবে সেগুলোও।” তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক হইচই পড়েছে। শুধু তাই নয়, শুরু হয়েছে সমালোচনাও।
প্রসঙ্গত, কলকাতা পুরসভার এই নাম বদলের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “আমি সাধুবাদ জানাই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের পবিত্র দিনে কলকাতা পুরসভার নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে।” তাঁর সংযোজন, “এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এক ঐতিহাসিক ভুল শোধরাতে। এবার থেকে সোরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নতুন নাম হবে গোপাল মুখার্জি রোড।” গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এটি শুধু এক রাস্তার নাম পাল্টানো নয়, বরং এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়নের।
এরপরই নানা মহল থেকে ধেয়ে আসে সমালোচনা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকে এর তীব্র নিন্দা করা হয়। কংগ্রেসের দুই প্রভাবশালী নেতা পবন খেরা ও জয়রাম রমেশ এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন এবং সমালোচনা করেন গেরুয়া শিবিরের। পবন খেরার বক্তব্য, “বিজেপি বোকাদের দল। এই অজ্ঞ লোকগুলো পার্থক্যটুকুও বোঝে না হাসান সোহরাওয়ার্দী ও হোসেন সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে।” অন্যদিকে পবন খেরার সেই পোস্ট শেয়ার করে জয়রাম রমেশ লেখেন, “হাসান সোহরাওয়ার্দী, যাঁর নামে এই রাস্তার নাম, তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আবার এসপিএমের বাবা স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁরও কয়েক বছর আগে আসীন ছিলেন ওই পদে। কিন্তু এসব তথ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জানা যায় না।” এই বিতর্ক প্রসঙ্গে সোমবার বিধানসভায় বাজেট ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠক করে এমন মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার দেখার আগে কি হয়।



By











