দেবজিৎ মুখার্জি: বাবরের নামে মসজিদ তৈরি করার বিরোধিতা করে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল শীর্ষ আদালতে, তা হয়ে গেল খারিজ। কী বক্তব্য সুপ্রিম কোর্টের? বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহেতার বেঞ্চ কানেই নিলো না আবেদন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় আবেদনকারীর তরফ থেকে। বলা যায়, ধাক্কা খেয়েছেন আবেদনকারী।
বাংলা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিঃসৃত হওয়ার পর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি করার কথা ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন কবির, যা ঘিরে অব্যাহত রয়েছে রাজনৈতিক তরজা ও বিতর্ক। সকল রাজনৈতিক দলই ইতিমধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছে এই ব্যাপারে। হুমায়ুনের তরফ থেকেও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে মসজিদ তৈরির কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। বিষয়টি যে এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতির এক অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, তা না বললেও বোঝা যায়।
এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বাবরের নামে মসজিদ তৈরি করার বিরোধিতা জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। মসজিদ তৈরি বন্ধ করা ও দ্রুত পদক্ষেপে দাবি জানানো হয় আবেদনকারীর তরফ থেকে। আবেদনকারীর যিনি আইনজীবী, তিনি জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধানের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। কিন্তু কোর্ট মামলাটিকে গুরুত্ব দিল না এবং খারিজ করে দিয়েছে আবেদন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বারাবাঁকিতে একটি জনসভায় নিজের বক্তব্য রাখেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, “কোনও জন্মেই আর পুননির্মিত হবে না বাবরি মসজিদ।” এরপর তিনি এটাও জানিয়েছিলেন যে যাঁরা এটি নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন, তা কখনোই পূরণ হবে না। তাঁর বক্তব্য, “এখনো যাঁরা স্বপ্ন দেখছেন, কোনদিন পূরণ হবে না তাঁদের স্বপ্ন।” যদিও পাল্টা দেওয়া হয় হুমায়ুন কবিরের তরফ থেকেও। তিনিও রুখে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
পাশাপাশি, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন যোগীরাজ্যের মন্ত্রী অনিল রাজভরও। তিনি বলেছিলেন, “মসজিদ তৈরি করা নিয়ে কারোর কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কেউ যদি মসজিদ তৈরি করে লুণ্ঠনকারীর নাম নিয়ে বা ভারতবিদ্বেষী মানসিকতার আক্রমণকারীর নাম নিয়ে, তাহলে তা একেবারেই বরদাস্ত করা উচিত নয়।” এর সঙ্গে তিনি এটাও দাবি করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরাও এমনটা বরদাস্ত করবে না। তিনি বলেন, “এই ধরনের মানসিকতা আমাদের দেশও সহ্য করবে না। অত্যন্ত খারাপ এটা।” এবার দেখার বিষয় যে জল কতদূর গড়ায়।



By









