দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: চলতি বছরে বাংলায় হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পরিবেশ পাল্টেছে রাজ্যের। তার উপর রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ায় পরিস্থিতি আরো স্পর্শকতর হয়ে উঠেছে। দিনদিন বেড়ে চলেছে রাজনৈতিক তরজা। একে অপরকে ২৪ ঘন্টা আক্রমণ করে চলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। বলা ভালো, ভোটের আগে এটি এক বড় আলোচনার বস্তু হয়ে উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। এই আবহাওয়ায় কলকাতা হাই কোর্টে এসআইআরকে ঘিরে দায়ের হলো আরো এক নয়া মামলা। মামলাকারী একজন আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর করার কারণ কি বা সংশোধনের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ কারণ দেখানো হয়নি। মঙ্গলবার সকালে মামলাকারী আইনজীবী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের। এরপরই মামলা দায়ের হয়। আদালত সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখে শুনানি হতে চলেছে।
মামলাকারী আইনজীবীর আবেদন, “কেন এসআইআর হচ্ছে? সেটার কোনও ব্যাখ্যা নেই। এই সংশোধন করতে হলে একটা বিশেষ কারণ দেখাতে হবে। কোথায় সেই তথ্য বা নথি? এতদিনেও কোনও নথি কোথাও প্রকাশ করা হয়নি। এই ইস্যুতে আবেদন করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। তাদের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সকল নির্বাচন কমিশনকে এই তথ্য দেওয়ার। কিন্তু তারপরও দেওয়া হয়নি কোনও নথি।” এবার দেখার বিষয় যে মামলা ঠিক কোন পথে যায়।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই এর চাপে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা ঘিরে কমিশন ও বিজেপির তীব্র নিন্দা করে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবির এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে শাসকদলের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে। এই মুহূর্তে চলছে শুনানি পর্ব। তাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দাগ পড়েছে সমাজের স্বনামধন্য ব্যক্তিদেরও, যা ঘিরে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এবার দেখার বিষয় যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এর কোনও প্রভাব পড়ে কিনা। এসআইআরকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে কি ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে বিজেপি? নাকি আরো বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে ঘাসফুল শিবির? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আর কিছুদিন পর।



By









