হাফিজুর রহমান: রফি ও কিশোর কুমার দুই বিখ্যাত গায়ক সম্পর্কে নানা কাহিনী চালু আছে। এর মধ্যে ফ্যানদের মধ্যে কে বড় গায়ক, সেটা উস্কে দেয় বোম্বের এক বিখ্যাত দৈনিক। ফ্যানরা কে বড় গায়ক, সেটা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করলে কিশোর কুমার নিজে ডিএন রোডে সেই দৈনিকের অফিসে গিয়ে এই বিতর্ক থামিয়ে দেন। রফিকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন কিশোর কুমার। রফিও কিশোর কুমারকে ভাইয়ের মতো ভালোবাসতেন।
সঞ্জয় গান্ধীর এক অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে গান গাইতে না চাওয়ায় কিশোর কুমারকে অলিখিতভাবে ব্যান করা হয়, তারই জেরে কিশোর কুমারের খুব ক্ষতি হয়। ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। রফি ব্যাপারটি মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি কাউকে কিছু না বলে একদিন দিল্লি গিয়ে সোজা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কথা বলে ব্যান তুলে ফিরে আসেন। নিষেধ উঠতেই কিশোর আবার নিজের স্থান ফিরে পান। কজনে একথা জানন?
রফি ঢাক বাজিয়ে বলেননি। ব্যাপারটা জানা যায় রফি চলে যাওয়ার পর। কিশোর কুমার খবর পেয়ে যে অবস্হায় ছিলেন সেভাবেই লুঙ্গি পরেই মহম্মদ রফি চকের বাড়িতে গিয়ে প্রয়ত গায়কের পা ধরে শিশুর মত উচ্চ স্বরে কাঁদতে থাকেন। ওকে অনেক কষ্টে থামানো হয়। এই খবর আবেগ তাড়িত কিশোর কুমার না বললে আমরা জানতে পারতাম না।
আমার বন্ধু সাংবাদিক পিটার মারটিসের কাছে এই খবর পাই। রফি নিঃশব্দে কাজ করায় বিশ্বাসী ছিলেন। তার চরিত্র ছিল পদ্ম-পাতার জলের মত। বোম্বের কৃত্রিম ফিল্মি দুনিয়ার থাকলেও মাটিতে পা ছিল তাঁর। ফিল্মি দুনিয়ার অংশ থেকেও তিনি ছিলেন সবার থেকে আলাদা। ঘটনাটি পিটার তাঁদের নামী ফিল্মি সাপ্তাহিকে বের না করলে জানতে পারতাম না। মান্নাদার কথা দিয়ে শেষ করছি, রফি শাপগ্রস্ত্র এক গন্ধর্ব, যে ভুল করে এখানে জন্মেছে।



By














