দেবজিৎ মুখার্জি: এমনিতেই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা ইস্যুতে উত্তপ্ত বঙ্গল রাজনীতি। তার উপর ঘটল এক মারাত্মক কান্ড। কী সেই কাণ্ড? যোগিরাজ্য উত্তরপ্রদেশে হেনস্থার শিকার হলো বাংলার পুলিশ। অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে নদীয়া জেলার কোতোয়ালি থানার পুলিশকে সাহায্য তো করা হয়নি, উল্টে অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডায়, যা ঘিরে রাজ্যে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক তরজা।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। নয়ডার এক বাসিন্দা সুরজিৎ সেনগুপ্ত (তিনি বিজেপির মিডিয়া সেলে কর্মরত বলে খবর) এক্স হ্যান্ডেলে প্রশান্ত কিশোর ও মহুয়া মৈত্রের একটি ‘লাভ চ্যাট’এর স্ক্রিনশট পোস্ট করেন, যা ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ছড়ায়। মহুয়া মৈত্র কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পর পরীক্ষা করে দেখা যায় যে সেটি ভুয়ো। এরপরই নোটিস পাঠানো হয় সুরজিৎ সেনগুপ্তকে মামলা দায়ের করে। তবে অভিযুক্ত না দিয়েছেন হাজিরা, না যোগাযোগ করেছেন পুলিশের সঙ্গে।
এরপর আদালত দিয়ে সুরজিৎ সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় পুলিশ এবং এরপর কোতোয়ালি থানার ৪ সদস্যের এক বিশেষ দল নয়ডায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে যান। কিন্তু অভিযোগ, ফেজ টু থানার পুলিশ বাংলার পুলিশদের থানায় নিয়ে যায় এবং বসিয়ে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, আরো অভিযোগ, চৌকি নম্বর ১১০এর পুলিশরা বিশেষ দলকে সরিয়ে দেন এবং সাহায্য করেন অভিযুক্তকে পালাতে।
ঘটনা প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার আইসির বক্তব্য, “স্থানীয় পুলিশ নাকি জানিয়েছে রাজনৈতিক উচ্চমহল নির্দেশ দিয়েছে গ্রেফতার না করার। বিজেপির স্থানীয় মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত। এখনো নয়ডায় রয়েছে বিশেষ দল এবং চেষ্টা চালাচ্ছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে আদালতের নির্দেশ মেনে।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায় কিনা, সেটাই এখন দেখার। তবে ঘটনাকি ঘিরে যে বিতর্ক চরমে যাবে, তা না বললেও চলে।



By










