দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সম্প্রতি, শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ভোটের এমন ফলাফলে বেশ ভেঙে পড়েছেন দলীয় নেতারা। এই আবহে রবিবার কালীঘাটের কার্যালয়ে দক্ষিণবঙ্গের জেলা পরিষদ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নিজের অতীতের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলের নেতারা যাতে এই ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইতে দ্রুত নামতে পারেন, সেই কারণে অতীতে তাঁর উপর হওয়া অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের হাতের পুরনো চোটের দাগ দেখিয়ে তাঁর বক্তব্য, “প্রচুর মার খেয়েছি আমি বাম আমলে। আমাকে গণনার দিনেও মারা হয়েছিল, হেরেও গিয়েছিলাম আমি। যদি আমি ভেঙে না পড়ি, তাহলে কেন ভেঙে পড়ছেন আপনারা? আবার ঘুরে দাঁড়াবে দল।”
পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ঘরছাড়া প্রসঙ্গেও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যেখানে পার্টি অফিস ভেঙেছে, সেখানে অফিস করুন নতুন করে।” দলীয় নেতাদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বলেন, “দরকারে আমি নিজে গিয়ে পার্টি অফিস রং করব দু-এক জায়গায়।” প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত হলেও গ্রামীণ বাংলার ২০টি জেলা পরিষদ এখনো তৃণমূলের হাতে। তবে জেলা স্তরের নেতারা আশঙ্কায় ছিলেন যে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসায় আটকে যাবে গ্রামোন্নয়নের ফান্ড এবং ভেঙে দেওয়া হবে নির্বাচিত বোর্ড। এই দোটানার মাঝেই বৈঠকটি হয় কালীঘাটে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এর সঙ্গে শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By











