দেবজিৎ মুখার্জি: এনসিইআরটির অষ্টম শ্রেণীর সোশ্যাল সাইন্স বইয়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এবার এই ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? সেই বিতর্কিত বই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে কেন্দ্রকে চরম ভর্ৎসনা করা হয়। তাদের বক্তব্য, ঘটনার গভীর তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে চিন্তা দেখিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “কি বার্তা যাবে যদি আপনি গোটা শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের শেখান যে বিচার ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত? কী শিখবেন শিক্ষক বা অভিভাবকরা।” এরপরই বইটিকে দেশে ও বিদেশে দুই জায়গাতেই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় বেঞ্চের তরফ থেকে। এই নির্দেশ দেওয়া হয় যেন অনলাইনেও বইটি প্রকাশিত না হয়। যেই বইগুলিতে বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি সংক্রান্ত অধ্যায় রয়েছে, তাও নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, শীর্ষ আদালতে নোটিস পাঠিয়েছে এনসিইআরটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদকে।
প্রসঙ্গত, এর আগে বইতে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের কাজকর্মের কথা শুধু বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন বইতে ‘বিচার বিভাগের ভূমিকা আমাদের দেশে’ নামক অধ্যায়টিতে এর সঙ্গে তুলে ধরা হয় সেই সমস্যাগুলির কথা যার ফলে প্রভাব পড়ে বিচার ব্যবস্থার কাজকর্মের উপর। দুর্নীতির মতো বিষযও তাতে রয়েছে। এই অধ্যায়টিতে লেখা কিভাবে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রভাব পড়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের উপর।
বইতে লেখা হয়েছে, সাধারণ মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দুর্নীতি হতে দেখেন বিচার ব্যবস্থায় এবং এই কারণে সুবিচার পাওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় গরিব ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীদের জন্য। সেই কারণে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় এবং জুডিশিয়াল স্ট্রাকচারে স্বচ্ছতা আসে। এবার সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হল পুরো বইটি নিষিদ্ধ করার, দেশে ও বিদেশে এবং অনলাইন ও অফলাইনে। পাশাপাশি, নোটিস পাঠানো হয়েছে এনসিইআরটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদকে। এনসিইআরটির তরফ থেকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়া সত্ত্বেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখার যে আগামীদিনে এই ঘটনায় আর নতুন কি হয়।



By












