দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বাংলার মসনদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একের পর এক ঝড় ধেয়ে আসছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। কোথাও দলের নেতাদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অন্যান্য নেতা-কর্মীরা, কোথাও আবার আক্রান্ত হচ্ছেন দলীয় কর্মীরা। শুধু তাই নয়, বহু নেতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা ঘাসফুল শিবির।
এই আবহে দলের কালীঘাটে দলের পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন দলের সুপ্রিমো, তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য, “রঙ করুন পার্টি অফিস। সারিয়ে তুলুন ভেঙে যাওয়া অংশ। আমি নিজে রঙ করব পার্টি অফিস।” পাশাপাশি, তিনি নির্দেশ দেন এক সপ্তাহের মধ্যে জেলাওয়ারি রিপোর্ট জমা দেওয়ার, যেখানে বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে দলের পরাজয়ের কারণ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার জায়গার কথা। এছাড়া ক্ষুদ্র মিটিং-মিছিল ব্লক, টাউন ও অঞ্চল স্তরে শুরুর নির্দেশও দেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। তিনি ঘরছাড়া কর্মীদের তালিকা কালীঘাটে জমা দিতেও বলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এর সঙ্গে শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By














