দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় ২৮ দিন পর পথে নামলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব থেকে শুরু করে একাধিক অভিযোগ তুলে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধরনায় বসলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। তবে এদিন একটি বিষয় ছিল চোখে পড়ার মতো। কী সেই বিষয়? এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না সিংহভাগ বিধায়ক ও সাংসদ।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। বলা ভালো, গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ১০০রও কম আসন পেয়েছে তারা। ফলপ্রকাশের পর থেকেই নানাভাবে অস্বস্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। কখনো দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার, কখনো রাজ্য বা কেন্দ্রীয় এজেন্সিদের দিয়ে দলের নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা। এক কথায় বলতে গেলে, বর্তমানে চরম চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গোটা দল।
এই আবহে রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার পথে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসলেন তিনি সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতারা। তবে এদিন যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো, তা হল দলের এই কর্মসূচিতে অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদের অনুপস্থিতি, যা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে। বলা ভালো, একপ্রকার প্রশ্নের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে এই কর্মসূচিতে দেখা যায় মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, মালা রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অশোক দেব, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং অখিল গিরিকে। কিন্তু বেশিরভাগ বিধায়ক-সাংসদদের অনুপস্থিতি প্রশ্ন তুলছে যে এবার কি অস্তিত্ব সংকটের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ঘাসফুল শিবির। সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় যে কিভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারা। কী হতে চলেছে ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ? এই মুহূর্তে এটাই একটা বড় প্রশ্ন বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।


By










