দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: শুক্রবার, ১৫ মে, স্পিকার নির্বাচন ছিল বিধানসভায়। তাতে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন গেরুয়া শিবিরের রথীন্দ্র বসু। সেখানে সকল দলের বিধায়করা বক্তব্য রাখেন। নিজের বক্তব্যে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঁচাছোলা ভাষায় বিঁধলেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। তাঁর বক্তব্য, এটি ধর্মযুদ্ধ ছিল এবং যাঁরা এতে জিতে এসেছেন, তিনি তাঁদের অভিনন্দন জানান।
ঘাসফুল শিবিরের বিধায়কদের দিকে তাকিয়ে তাপস রায় বলেন, “দেখো দেখো! অনেক তো করেছ। এবার খারাপ লাগছে নাকি দেখতে?” এরপর তাঁর বক্তব্য, “এটা শুধু সরকার তৈরি করার আর নির্বাচিত হয়ে আসার ভোট ছিল না। এটা ধর্মযুদ্ধ ছিল। আর সেই ধর্মযুদ্ধে যাঁরা জিতে এসেছেন, অভিনন্দন জানাই তাঁদের।” শুধু তাই নয়, এদিন বর্ষিয়ান নেতা এও দাবি করেন যে পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত, পাপমুক্ত এবং ভয় মুক্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফল বেরিয়েছে ২৯৩টি আসনের। ২০০র বেশি আসন পেয়ে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১০০র কম আসন পেয়েছে। খাতা খুলেছে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই স্পর্শকাতর আসন থেকেই জয় পাওয়া। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা। এছাড়াও বঙ্গ রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের সিংহভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এর সঙ্গে শুরু হয় বঙ্গ রাজনীতির এক নয়া অধ্যায়।



By














