দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনকে (এসআইআর) ঘিরে অশান্তি চরমে পৌঁছেছে বাংলায়। ভোটের আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিয়ত একে অপরের উপর আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছে ঘাসফুল ও গেরুয়া শিবির। এই আবহে এসআইআর নিয়ে কবিতা লিখলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এর তীব্র নিন্দা করেন। কবিতায় তিনি তুলে ধরেন সবটা।
কবিতার প্রথম কটি লাইনে লেখা, “আমি অস্বীকার করি – এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব।/ আমি অস্বীকার করি – রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ, আমি অস্বীকার করি – রক্তের উপর কালির শাসন।” এই পর্যন্ত ১৫০ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি লেখেন, “এটা শুধু সংখ্যা নয়, এ রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।” পাশাপাশি, এর পদ্ধতির অযৌক্তিকতাকে আক্রমণ করে কবিতায় বলা, “রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান/শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।”
পাশাপাশি, ইতিহাসের কথাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কবিতায় লেখা, “আর ইতিহাস/ সে ক্ষমা করে না, সে তালিকা পড়ে না/ইতিহাস মনে রাখে কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল/কে দাঁড়িয়েছিল, কে আগুন জ্বালিয়েছিল! যে মানুষকে তুচ্ছ করে ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।” বলে রাখা ভালো, এর আগে এসআইআর নিয়ে ২৬টি কবিতা লিখেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, এসআইআর ইস্যুতে প্রথম থেকেই আওয়াজ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে কেন্দ্রের উদ্দেশ্য এর দ্বারা এনআরসি করানো। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে একজন বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে রাজধানীতে আন্দোলন হবে। সংসদেও দলীয় সাংসদরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি এবং পাল্টা অভিযোগের আঙুল তোলে ঘাসফুল শিবিরের দিকে। যদিও শেষ পর্যন্ত বাংলায় এসআইআর শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা একেবারে তুঙ্গে পৌঁছেছে। একে অপরকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছে তৃণমূল ও বিজেপি। দুজনেই আশাবাদী যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয় তাদের দলেরই হবে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায়।



By










