দেবজিৎ মুখার্জি: কিছুদিন পর হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধাক্কা খেলো অসমের বিজেপি সরকার। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও একের পর এক নেতার দল ছাড়ার কারণে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল যে কংগ্রেস কতটা লড়াই দিতে পারবে গেরুয়া শিবিরকে। তবে তার মাঝেই বড় চাল চাললো হাত শিবির। তাদের তরফ থেকে জোট চূড়ান্ত করে ফেলা হলো সেই রাজ্যের ভূমিপুত্রদের দল রাইজোর দলের সঙ্গে।
কয়েকদিন ধরেই রাইজোর দল ও কংগ্রেসের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল আসনরফা নিয়ে। অখিল গগৈ ১৫ আসন চাইলেও কংগ্রেস ৮-৯টি ছাড়তে ইচ্ছুক ছিল। বিষয়টা এই পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে ধরে নেওয়া হচ্ছিল যে জোটের সম্ভাবনা আর নেই। এমনকি হাত শিবিরের নেতাদের আক্রমণ করে বিবৃতিও দিয়েছিলেন অখিল গগৈ। কিন্তু চোখের নিমিষে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন দেখা যায় দলের সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলুইয়ের দল ছাড়ার পর। দুর্বল হয়ে হাত শিবির আসন বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে নমনীয় হয় এবং ১১টি আসন ছাড়তে রাজি হয় রাইজোর দলকে। আরো দুটি আসনে হাত শিবিরের সঙ্গে ফ্রেন্ডলি ফাইট হবে তাদের।
বৃহস্পতিবার রাতে দুই নেতার তরফ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করা হয় জোড়হাটে গৌরব গগৈয়ের রেসিডেন্সে। সেখানে অখিল গগৈয়ের তরফ থেকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয় যে তিনি সবটা দিয়ে লড়াই করবেন গৌরবকে মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যে। তবে দুই দলের এক হওয়াটা একেবারেই ভালো সংকেত নয় গেরুয়া শিবিরের কাছে। বলা ভালো, চাপ বাড়তে পারে মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মার কারণ এর জেরে রাজ্যের দুই অহমিয়া দল – রাইজোর দল এবং অসম জাতীয় পরিষদ – হাত শিবিরের ছাতার তলায় চলে এলো।
এর জেরে অংকটা অনেকটাই বদলে যাবে। অসমের জনসংখ্যার ৪০% মুসলিম। যদিও তা ২৬টি আসনের বাইরে নয়। আগে তা ভাগাভাগি হতো কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফের মধ্যে। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে কার্যত শূন্য হয় এআইইউডিএফ। সুতরাং রাজনৈতিক মহলের মতে, সংখ্যালঘু ভোট পুরোপুরি যাবে কংগ্রেসের ঝুলিতে। পাশাপাশি, হাত শিবিরের নজর এবার ভূমিপুত্রদের ভোটে। বিজেপির ঝুলিতে এই ভোট আসছে অসম গণ পরিষদের দৌলতে। তবে এবার তো চলে আসতে পারে কংগ্রেসের দখলে অসম জাতীয় পরিষদ ও রাইজোর দল হাত শিবিরের সঙ্গে হাত মেলানোতে এবং গৌরব গগৈকে সিএম ফেস করে এগোনোয়ে। এমনটা যদি হয় তাহলে পুরো বাজি ঘুরে যেতে পারে অসমে।



By










