দেবজিৎ মুখার্জি: রাম মন্দিরে ভক্তদের দানের টাকা চুরির ঘটনায় এবার নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার অযোধ্যার রুডৌলি বিধানসভা কেন্দ্রে এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি সত্য সামনে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধীদের একহাত নেন। তিনি অনুরোধ করেন প্ররোচনার ফাঁদে পা না দেওয়ার। শুধু তাই নয়, তাঁর আরও অভিযোগ, বিরোধীরা চায় না অযোধ্যার সুনাম হোক এবং সম্মান পাক।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “পা দেবেন না অযোধ্যাকে বদনাম করা, রাম মন্দিরকে অপমান করে লোকজনের প্ররোচনায়। এরা কখনও চায় না সুনাম হোক অযোধ্যার, সম্মান পাক। এরা অযোধ্যার জন্য কিছুই করেনি। ক্ষমতা ছিল না এদের। দীর্ঘ বছর বিদ্যুৎ ছিল না অযোধ্যায়। সংকীর্ণ গলিতে বন্ধ ছিল জায়গাটি। আজ এরা অযোধ্যাকে নিয়ে কথা বলছে। পা দেবেন না এদের ফাঁদে। এরা গুলি চালিয়েছে রামভক্তদের উপর, লাঠি চালাত রামের নাম নিলে, প্রশ্ন তুলত রামকে নিয়ে। আমরা চাই নাএদের উপদেশ। সিট বসেছে। সব তথ্য সামনে আসবে।” তাঁর সংযোজন, “যারা রামভক্তদের অপমান করে কলমা পড়ে মাফিয়াদের কবরে গিয়ে, কোনও উপদেশ তাদের কাছ থেকে আমরা শুনব না।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাম মন্দিরের অনুদানের হিসেব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোটা অংকের টাকার গরমিলের অভিযোগ তোলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে অখিলেশ যাদব দাবি করেন, এটি বেশ উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক খবর বিশ্বের রাম ভক্তদের জন্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, হিসাব মিলছে না ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদানের এবং কেউ পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাইছেন না এই বিষয়ে। এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র সীমিত নয় আর্থিক অনিয়মের প্রশ্নে, বরং রাম ভক্তদের বিশ্বাস ও আবেগের সাথে জড়িয়ে। আদালতের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানান অখিলেশ।
প্রথমে ট্রাস্টের তরফ থেকে এই অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়া হলেও পরে সন্দেহজনক ট্রানজ্যাকশনের হদিস মেলে। তাদের অনুরোধে যোগী আদিত্যনাথ নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকার গঠন করে সিট। ঘটনায় ইতিমধ্যে মন্দিরের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিনয় কাটিহার ও ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তাতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের যে মুখ পুড়েছে, তা না বললেও চলে। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এবার দেখার বিষয় যে তদন্ত করে কী বেরিয়ে আসে। আগামীদিনে কোনও বিস্ফোরক তথ্য হাতে লাগে কিনা, সেদিকে নজর রয়েছে ইউপি সহ গোটা জাতীয় রাজনৈতিক মহলের।



By










