দেবজিৎ মুখার্জি: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। নির্বাচনের আগে কেরলের নাম বদলের প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা রাজি হওয়ায় কেরলবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে এর সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে বাংলার ক্ষেত্রে এমন বঞ্চনা কেন। এই বিষয়ে ওমর আব্দুল্লাহ পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবির পক্ষে সওয়াল করেন।
ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি দাবি করে থাকেন, তাহলে কেন্দ্র সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত।” এরপরই তাঁর প্রশ্ন, “যদি কেরলের নাম পাল্টানো সম্ভব হয়, তাহলে কেন পাল্টানো হবে না পশ্চিমবঙ্গের নাম?” পাশাপাশি তিনি এটাও দাবি করেন, “কেন্দ্রের দেখা উচিত যদি আগামীদিনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভায় এভাবে নাম পাল্টানোর প্রস্তাব পাশ হয়।”
প্রসঙ্গত, কেরলের বাসিন্দাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন যে বাংলার ক্ষেত্রে বঞ্চনা কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমরা কোনও রাজ্যের বিরুদ্ধে নই। কেরল পেয়েছে, সেটা ওদের ব্যাপার। শুভেচ্ছা জানাই ওদের। আমরাও একই দাবি বহুদিন ধরে করে আসছি। কিন্তু কেন মানা হচ্ছে না আমাদের প্রস্তাব?”
এই বিষয়ে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। দুবার প্রস্তাব পাশ করেছিলাম আমরা। আমি নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি দিল্লি গিয়ে। ওরা বাংলা বিরোধী। বাংলার মনীষীদের বিরোধিতা করে বলেই মান্যতা দিল না নাম পাল্টানোর ক্ষেত্রে।” তাঁর প্রশ্ন, “কেন বঞ্চিত হবে বাংলা?” যদিও এর পেছনে কেরল সরকার ও বিজেপির নতুন বন্ধুত্বের ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা পেয়ে গেল কারণ কেরলে সিপিএম ও বিজেপি জোট গড়ছে বলে।”
যেহেতু বাংলার পাশাপাশি কেরলের বিধানসভা নির্বাচনও দোরগড়ায়, তাই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে ভোটের ঠিক আগে কেন এই প্রস্তাবে রাজি হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। তবে এর সঙ্গে কোন রাজনীতির যোগ নেই বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর সাফ কথা, “এটা সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই ভোটের।” এবার দেখার বিষয় যে এর থেকে ইতিবাচক কিছু পায় কিনা বিজেপি।



By









