দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ‘নব তৃণমূল ব্লক’এর অভিষেকের পরদিনই বিধানসভার ডেপুটি লিডার সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ গেরুয়া শিবিরের। দুর্নীতি, কাটমানি, অবৈধ নির্মাণ, তোলাবাজির অভিযোগ তুলে এদিন সন্দীপন সাহা ও তাঁর বাবা স্বর্ণকমল সাহার বিরুদ্ধে এন্টালিতে এক বিক্ষোভ মিছিল করলেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী সমর্থকরা। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
বুধবার, ৩ জুন, ছিল বঙ্গ রাজনীতির এক ঐতিহাসিক দিন। রাজনীতির ময়দানে অভিষেক ঘটল ‘নব্য তৃণমূল’এর বা ‘নব তৃণমূল ব্লক’এর। এমনিতেই ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি একাধিক ইস্যুতে উত্তাল, তার উপর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ স্বীকৃতি পাওয়ায়। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে এই নয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গঠনকে ঘিরে এই মুহূর্তে ব্যাপক তোলপাড় চলছে সমগ্র বঙ্গ রাজনীতিতে।
এই আবহে বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা সন্দীপন ও স্বর্ণকমল সাহার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে পথে নামেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। একাধিক পোস্টার-ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন তাঁরা। এক বিজেপি কর্মীকে জুতো মারতেও দেখা যায় সন্দীপন সাহার ছবিতে। পাশাপাশি ‘চোর চোর’ স্লোগানও ওঠে বাড়ির সামনে। ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্বর্ণকমল সাহা বলেন, পরাজয়ের পর হতাশা থেকে এমন কাজ করছেন প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল।
প্রসঙ্গত, ৫০ জনেরও বেশি বিধায়ক নিয়ে গঠিত ‘নব্য তৃণমূল’ বা ‘নব তৃণমূল ব্লক’। বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া উপ-দলনেতার দায়িত্বে শিউলি সাহা, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহা। যদিও এই সমস্ত বিদ্রোহী বিধায়ক মিলে নতুন কোনও দল গঠন করেননি। বরং তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁরা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান।
পাশাপাশি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে এও স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ব্লকের কোনও সম্পর্ক নেই দূরদূরান্তে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের মান্যতা দেন কিনা এবং কাজ করেন কিনা তাঁদের পরামর্শদাতা হিসেবে। কী হতে চলেছে আগামীদিনে? সেটাই এখন নজরে রাখার মতো বিষয়।



By










