দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে বড় পরামর্শ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে। কী সেই পরামর্শ? যাবতীয় বুথ ভিত্তিক জনসংযোগের কাজ করে ফেলতে হবে চলতি মাসের মধ্যে। ২৫ তারিখের মধ্যে সবটা সেরে ফেলার কথা বলা হয়েছে তাঁদের।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পরিবেশ পাল্টাচ্ছে বাংলার। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, সকলেই জোরকদমে প্রস্তুতি চালু করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কিভাবে নিজেদের গড় ধরে রাখা যায় বা অন্যের গড় নিজেদের দখলে করা যায়, তার জন্য সবরকমভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছে দলগুলি। এক কথায় বলতে গেলে, কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র জমি ছাড়তে নারাজ।
এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব দলের বিধায়কদের জানালেন যে যেহেতু এখন মাধ্যমিক চলছে এবং তা শেষ হলেই উচ্চমাধ্যমিক হবে, তাই এই সময়টা মাইক বাজিয়ে প্রচারের পরিবর্তে প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলে যোগাযোগ বাড়াতে। তাঁদের ২৫ তারিখের মধ্যে পুরো বুথ ভিত্তিক জনসংযোগের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
নেতৃত্বের নির্দেশ, রোজ পাঁচটি করে বুথ এলাকার সব বাড়িতে যেতে হবে। পাশাপাশি, মন্দির দর্শন ও দলের নীচের তলার কর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। এছাড়া যাঁরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে জানতে হবে যে তাঁদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা। উঠোনে বৈঠক করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে (২০২১) বড় ব্যবধানে জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে বাংলায়। বিপুল ভোটে জিতে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পর ঘাসফুল শিবির ও তাদের জোটসঙ্গীর ঝুলিতে ছিল মোট ২১৬টি আসন। অন্যদিকে, বিজেপি পায় ৭৭টি।
বাম-কংগ্রেস খাতা খুলতে না পারলেও, তাদের জোটসঙ্গী আইএসএফ জয় পায় একটি আসন, তথা ভাঙ্গরে। তবে এই মুহূর্তে শাসকদল ও তাদের জোটসঙ্গীদের মোট আসনসংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২২৫এ, বিজেপির ৬৫ এবং বাকিদের দখলে ৪টি। এবার দেখার যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পর চিত্রতে কোন পরিবর্তন দেখা যায় কিনা। নাকি অব্যাহত থাকবে সবুজ ঝড়? তা জানা যাবে কদিন পর।



By










