দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: শেষ পর্যন্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন আরজি কর দুর্নীতিকান্ডের হুইসেল ব্লোয়ার আখতার আলি। মঙ্গলবার আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে পাঠায় জেল হেফাজতে। চলতি মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত তাঁকে থাকতে হবে হেফাজতে। প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীর বক্তব্য, তিনি মামলা অনেকদিন ধরে টেনেছেন এবং নিয়মিত হাজিরা এড়িয়েছেন। সিবিআইও এদিন তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেছে।
মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন আখতার আলি এবং আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর আইনজীবী আদালতে অসুস্থতার কারণ জানান এবং মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিনের আবেদন করেন। তবে সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত প্রশ্ন তোলেন যে একই অভিযোগে সন্দীপ ঘোষ জেলে রয়েছেন, তাহলে কেন বাইরে থাকবেন আখতার আলি? যদিও শুনানির পর বেরিয়ে এসে সবটা জানান হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আখতার আলি এবং তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন। কী বলেন তিনি? তাঁর বক্তব্য, “অপেক্ষা করছি আদালতের অর্ডারের জন্য। জামিনের জন্য আবেদন করেছি। অসুস্থ ছিলাম আমি। কাগজ দিয়েছি।” কোর্টের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেটা আদালতের রায় হবে, সেটা মানতে হবে। তদন্ত চলছে। খুব বেশি ব্যাথা হচ্ছিল কালকে। সেই কারণে উঠতে পারছিলাম না।”
আখতার আলির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সেই টাকা গিয়েছে তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও। নথি জাল করার পাশাপাশি বেশি দাম বলে জিনিস কেনারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে অভিযোগ ছিল, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২.৩৯ লক্ষ টাকা ও ৫০ হাজার টাকা ঢুকেছে ২০২০ থেকে দুই বছরের মধ্যে। প্লেনের টিকিট মিলিয়ে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা পেয়েছেন হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার। এই অর্থের ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি আক্তার। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে এই ঘটনায় আর কাদের নাম বেরিয়ে আসে। কী হয় আগামীদিনে? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে গোটা রাজ্যে।



By










