দেবজিৎ মুখার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে সীমা পাহুজা পুলিশ সুপার হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন আরজি কর হত্যাকান্ডে মৃত মহিলা চিকিৎসক অভয়ার মা। কী বললেন তিনি? রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান যে সীমা পাহুজার জেল করাবেন। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তিনি এটাও জানান যে কেসটা আরেকটু এগোলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করবেন।
আরজি কর হত্যাকান্ডে সিবিআই তদন্ত নিয়ে উঠেছিল একাধিক প্রশ্ন। বলা ভালো, এখনো উঠে চলেছে। এর মাঝেই প্রোমোশন পেলেন তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপার হন তিনি। তাঁর বদলি হয়েছে রাজধানীর স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (১)এ, যা দেখে ক্ষুব্ধ অভয়ার মা। কোন পথে হাঁটবেন তিনি, তা জানিয়ে দেন।
অভয়ার মায়ের হুঁশিয়ারি, “ওনাকে জেলে ঢুকিয়ে ছাড়বো আমি। এতদিন যা তদন্ত উনি করেছেন, তাতে জেল হওয়া উচিত।” তবে এখানেই থেমে যাননি তিনি। অভয়ার মা আরও হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর আরও বক্তব্য, “মামলা করব ওনার বিরুদ্ধে কেসটা আরেকটু এগোলে। যদি যারা আসল দোষী, তাদের আমরা খুঁজে বার করতে পারি, তাহলে জেলে পাঠাবো ওনাকে।”
সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ তোলেন অভয়ার মা। তিনি বলেন, “কোনও তদন্ত করেননি উনি নিজে। আদতে যা বলা হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে, উনি সিলমোহর দিয়েছেন তাতেই।” এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কেন হাতে নিলেন উনি এই মামলাটি? যোগাযোগ রাখেন না উনি আমাদের সঙ্গে। তদন্তই করেননি কোনও।” তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি কতটা ক্ষুব্ধ সিবিআই তদন্ত নিয়ে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আরজি কর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যখন, সিবিআই চার্জশিট পেশ না করাতে পারায়, সন্দীপ ঘোষ ও অভিজিৎ মন্ডল জামিন পেয়ে যান, তখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে। একটা সময় ছিল যখন অভয়ার মা-বাবাই সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন, তবে এখন তাঁরাই তাদের কাজকর্মে ক্ষুব্ধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পর্যন্ত লেখা হয়। কিন্তু তারপরও যখন সীমা পাহুজা প্রোমোশন পান, তখন তা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা না বললেও চলে।



By










