হাফিজুর রহমান: শুনেছিলাম সুমন কল্যাণপুর পাবলিক লাইফে আসা ছেড়েছেন, ইন্টারভিউ দুরের কথা আড়ালে থাকতে চান। মহম্মদ রফির উপর লেখা আর সুমন নেই ভেবে মন খারাপ হয়ে গেল। মহাম্মদ রফির ছোট ছেলে শাহিদ রফিও হাত তুলে দিলেন। পরের দিন সন্ধ্যেবেলায় জুহুর জেভিপিডি স্কিমের ছোট্ট বাংলো আনন্দমে বসে কথা বলছিলাম বাংলোর মালিক মান্নাদার সঙ্গে। কথায় কথায় অনেক সময় পার হয়ে গেছে উঠব উঠব করছি, এমন সময় কি মনে হল মান্নাদার কাছে সুমন কল্যাণপুরের প্রসঙ্গ তুলতেই মুশকিল আসান হয়ে এলেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মান্না দে। নিজে ফোনে ধরলেন সুমনকে, কথা বলে ফোন ধরিয়ে দিলেন।
অনেকদিনের কথা হলেও এখনও প্রতিটি শব্দ মনে আছে। কলকাতার সাংবাদিক শুনে বাঙলায় কথা বললেন। ঘটনার আকস্মিকতায় অবাক হতে দেখে ল্যান্ড ফোনের ওপ্রান্ত থেকে হেসে জানালেন ওর ছেলেবেলা বাংলাদেশে কেটেছে কাজেই বাংলা বলতে ও বুঝতে পারেন। সুমন জানালেন রফি ওর কাছে ভগবান, পুনে থেকে ফিরলে ইন্টারভিউ দেবেন। কথায় আছে তুমি যাবে বঙ্গে, কপাল যাবে সঙ্গে। ঠিক ধরেছেন সেই ইন্টারভিউ নেওয়া হয়নি। কারণ বোম্বের বৃষ্টি। জুন মাসের আকাশভাঙ্গা বৃষ্টির জন্য সেই ইন্টারভিউ নিতে পারিনি। এখন সুমন চলে যাওয়াতে আফশোষে। হাত কামড়াতে ইচ্ছে করছে।
গতস্য শোচনা নাস্তি। যা পাইনি তা নিয়ে আক্ষেপ করে লাভ নেই। সুমন যে সময়ে ফিল্ম ইনডাস্ট্রিতে আসেন সেই সময়ে লতা-আশার বাইরে কোনো গায়িকা টিকতে পারেনি। কারণটা সহজেই অনুমেয়। লতার ছেড়ে দেওয়া গান গেয়ে সময় কাটছিল সুমনের। লতাকণ্ঠী হওয়ার ইচ্ছে ছিল না। তাই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। সুযোগ এলো অপ্রত্যাশিতভাবে, সেই সময়ে গানের রয়্যালটি নিয়ে কথা উঠেছিল। রফি ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির হাতেম তাই, দাতা কর্নার মত। তার কাছে দুঃস্থ গায়ক-গায়িকা থেকে শুরু করে স্বল্প বাজেটের ডিরেক্টর বা প্রডিউসার, যারা রফির ফি দিতে পারতেন না, তাদের জন্য তিনি বিনা পয়সাতে গেয়ে দিতেন। আশা বা লতার মত টাকা পয়সা উপর আকর্ষণ ছিলনা তাঁর।
রয়্যালটি নিয়ে রফির সঙ্গে মতপার্থক্য হয় লতার। রফির মতে গান গেয়ে পেমেন্ট পাওয়ার পর তাঁর কাজ শেষ। লতা চান আরও টাকা। কাজেই রফির সমর্থন না পেয়ে তিনি ঠিক করেন রফির সঙ্গে গাইবেন না। এতে রফির ক্ষতি না হলেও লতার কেরিয়ারে প্রভাব পড়েছিল। কথায় আছে প্রকৃতি শূন্যস্থান রাখেনা, এই জায়গা পেলেন সুমন কল্যাণপুর। রফি সুমনের কেরিয়ার এক ধাক্কায় অনেক এগিয়ে দিলেন। অজস্র হিট দিয়েছেন জুটিতে। দুটি গানের কথা বলছি, গায়িকা হিসেবে সুমন কেমন বোঝা যাবে। ‘মমতা’ ফিলমের ‘রহে না রহে হাম’ আর ‘ব্রহ্মচারি’র সেই উদ্দাম ‘আজকাল তেরি মেরি প্যায়ার কি চর্চা হর জুবা পর, সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি গান কি অনায়াসে গিয়েছিলেন। ‘মনিহা’র ফিল্মের ‘দূরে থেকো না’ আর ‘আরও কাছে এসো’…. এই একটি মাত্র গান দিয়ে লতার থেকে তিনি কত আলাদা, সেটি প্রমাণ করেছেন। সুমন আমাদের ছেড়ে গেলেন আগামী জুলাইয়ের শেষ দিনে রফি দুনিয়াকে আলবিদা জানিয়ে চলে গেছেন। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন দুজনে এই কামনা করি।



By














